102
Sharesচীনের সীমান্তবর্তী এলাকায় তুষারধসের পর কোনো ধরনের পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই নেমে আসে পানির বিশাল ঢল। মুহূর্তের মধ্যে ভোতে কোশি নদীর তীরবর্তী ট্রেকিং রুট ও জনপদগুলো ভাসিয়ে নিয়ে যায় সেই স্রোত। কয়েক দশকের মধ্যে নেপালের সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্যোগগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে এই আকস্মিক বন্যা।
বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ভোতে কোশি নদীতে আকস্মিক বন্যা তিনটি জেলায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে। এতে অন্তত ১৫৭ জন নিহত হয়েছেন। নিরাপত্তাকর্মী ও বিদেশি পর্যটকসহ আরও কয়েক শ মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। ব্যক্তিমালিকানাধীন ও সরকারি সম্পদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে এটি নেপালের অন্যতম ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ।
চীনের সীমান্তবর্তী রাসুওয়া জেলার রাসুওয়াগাড়ি এলাকায় ভোতে কোশি নদীর শাখা লেন্দে নদীর প্রবাহ তুষারধসে বাধাগ্রস্ত হওয়ার পর আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়। প্রথমে পানির প্রবল স্রোত আঘাত হানে তিমুরে এলাকায়। কয়েক শ মানুষের বসতিপূর্ণ ওই জনপদের বড় একটি অংশ মুহূর্তেই ভেসে যায়। এরপর বন্যার পানি দ্রুত নিচের দিকে ছড়িয়ে পড়ে।
এলাকায় সেদিন কোনো বৃষ্টিপাতের খবরও ছিল না। ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে এই বিপর্যয়ের কোনো পূর্বাভাস ছিল না। মানুষ যখন প্রতিদিনের স্বাভাবিক কাজকর্মে ব্যস্ত, ঠিক তখনই হঠাৎ আছড়ে পড়ে বন্যার ভয়ংকর স্রোত।
রাসুওয়ার প্রধান কাস্টমস কর্মকর্তা রাজেন্দ্র ধুঙ্গানা বলেন, বুধবার সকালে মাটি কাঁপতে অনুভব করে প্রথমে তার মনে হয়েছিল ভূমিকম্প হয়েছে। কিন্তু বাইরে বেরিয়ে তিনি দেখেন, ওপরের দিক থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলীর মতো কিছু সঙ্গে নিয়ে পানির বিশাল একটি দেয়াল তিমুরে বাজারের দিকে ধেয়ে আসছে।
ধুঙ্গানা বলেন, “এটি ছিল বন্যা। প্রায় ১০০ মিটার উঁচু ঢেউয়ের মতো করে পানি বাজারের দিকে ধেয়ে এসেছিল। কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই পুরো বাজার উধাও হয়ে যায়।”
দুর্যোগের ভয়াবহতা বুঝতে পেরে ধুঙ্গানা ও আরও কয়েক ডজন মানুষ পাশের জঙ্গলে আশ্রয় নেন। সীমান্তের কাস্টমস চেকপোস্টে অপেক্ষমাণ ৩০০টির বেশি গাড়ি ও ট্রাকও পানির স্রোতে ভেসে যায়।
এরপর বন্যার স্রোত স্যাফ্রুবেশি হয়ে আরও নিচের দিকে এগিয়ে যায়। নদীর দুই তীরের পথে যা কিছু পেয়েছে, প্রায় সবই গ্রাস করেছে সেই স্রোত—মানুষ, পশু, ঘরবাড়ি, ভবন এবং সরকারি অবকাঠামো।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ৩৯১ জন বিদেশি নাগরিক ও ৪৪ জন নিরাপত্তাকর্মীসহ শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
বুধবারের বন্যায় নয়টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকের সমসংখ্যক শাখা ধ্বংস হয়েছে। প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯টি যান চলাচলযোগ্য সেতু এবং ৪০ কিলোমিটার মহাসড়ক বন্যার স্রোতে ভেসে গেছে। তবে ব্যক্তি ও সরকারি সম্পদের মোট ক্ষয়ক্ষতির হিসাব এখনো পাওয়া যায়নি।
নিখোঁজ মানুষের বিপুল সংখ্যার কারণে নিরাপত্তা কর্মকর্তারা ও দুর্যোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বুধবারের এই বন্যা নেপালের আধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে প্রাণঘাতী দুর্যোগগুলোর একটি হয়ে উঠতে পারে। এমনকি এটি ১৯৯৩ সালে সারলাহী, রাউতাহাট ও মাকওয়ানপুরে সংঘটিত ভয়াবহ বন্যার পর দেশের সবচেয়ে বড় দুর্যোগ হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে। ওই বন্যায় প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত হয়েছিলেন।
‘বাড়িঘরে ফেরার মতো কোনো রাস্তা বা সেতু নেই’
নুয়াকোটের বিদুর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান রবীন্দ্র নেপাল বলেন, সোলে থেকে আক্কারে বাজার পর্যন্ত শত শত বাড়ি বন্যার স্রোতে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। অনেকে নিরাপদ স্থানে যেতে পারলেও বহু বৃদ্ধ ও শিশু এখনো নিখোঁজ।
তিনি বলেন, “ভোর থেকে আমি পৌর ভবনে আটকে আছি। বাড়ি ফেরার মতো কোনো রাস্তা বা সেতু আর অবশিষ্ট নেই।”
বিদুর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দান্ডাথোক তুপচে এলাকার বাসিন্দা গোকর্ণ অধিকারী বলেন, তার গ্রামে এখন আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। তার পরিচিত বেশির ভাগ মানুষই নিখোঁজ।
সোলে ও আক্কারে বাজারের মাঝামাঝি কারমেটারে মাত্র কয়েকটি বাড়ি এখনো দাঁড়িয়ে আছে বলে জানান তিনি। তবে বলেন, “দূর থেকে যেসব বাড়িকে অক্ষত মনে হচ্ছে, সেগুলোও পুরোপুরি কাদা ও ধ্বংসাবশেষে ঢাকা।”
এক বছর আগেও একই নদীতে বন্যা
গত বছরও একই নদীতে ভয়াবহ বন্যা হয়েছিল। সেই বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো তখনো স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারেনি।
গত বছরের ৮ জুলাই লেন্দে নদীর বন্যায় অন্তত ১১ জন নিহত হন। ওই সময় এই এলাকার বিভিন্ন স্থানে সড়কের অংশবিশেষও পানির স্রোতে ভেসে যায়। নেপাল ও চীনের মধ্যে সংযোগকারী মিতেরি সেতুটিও তখন বন্যার পানিতে ধ্বংস হয়েছিল।
কর্তৃপক্ষ বলছে, আকস্মিক বন্যার বিষয়ে পর্যাপ্ত তথ্য না থাকাই এবার বিপুল প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির অন্যতম কারণ।
রাসুওয়া জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তিব্বতের দিক থেকে যে বন্যার সূত্রপাত হয়েছিল, সে বিষয়ে তাদের কাছে কোনো তথ্যই ছিল না।
এই ঘটনা একটি মৌলিক প্রশ্ন সামনে এনেছে—নদীতে বড় ধরনের বন্যা নেপালের ভূখণ্ডে ঢোকার পরই কি শুধু নিচের দিকের জনপদগুলোকে সতর্ক করা হবে? নাকি হিমালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় কোনো দুর্ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গেই সেই তথ্য পাওয়ার ব্যবস্থা থাকা উচিত?
সমস্যাটি শুধু নেপাল ও চীনের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানের ঘাটতিতেই সীমাবদ্ধ নয়। নেপাল নিজ ভূখণ্ডে যে স্বয়ংক্রিয় পর্যবেক্ষণ সরঞ্জাম স্থাপন করেছিল, সেগুলোও বন্যার আগে কোনো সতর্কবার্তা দিতে পারেনি।
জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সাবেক নির্বাহী প্রধান অনিল পোখরেল বলেন, অতীতেও চীনের ভূখণ্ড থেকে সৃষ্ট বন্যার ক্ষেত্রে একই ধরনের সমস্যা দেখা গেছে। কিন্তু বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়নি।
তিনি বলেন, “আমরা এখনো জানি না কতটা ঝুঁকি রয়ে গেছে। নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চীনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি করতে হবে, যার মাধ্যমে আগাম সতর্কবার্তা দ্রুত আমাদের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছাবে। তা না হলে এই সমস্যা চলতেই থাকবে।”
পোখরেল আরও বলেন, “সরকারকে ভাবতে হবে—দুর্যোগ ঘটে যাওয়ার পর শুধু ত্রাণ ও উদ্ধারকাজের মধ্যেই তারা সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি শুরুতেই এমন দুর্যোগের কারণে প্রাণহানি ঠেকানোর ব্যবস্থা করবে।”
তুষারধস থেকেই শুরু বিপর্যয়
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তুষারধসের কারণে লেন্দে নদীর প্রবাহ আটকে যাওয়ার পর আকস্মিক ও বিপুল এই বন্যার সৃষ্টি হয়।
নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষও জানিয়েছে, প্রাথমিক মূল্যায়নে নেপাল-চীন সীমান্ত এলাকায় একটি তুষারধসের তথ্য পাওয়া গেছে।
প্ল্যানেট ল্যাবসের স্যাটেলাইট ছবি বিশ্লেষণ করে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তিব্বতের রাসুওয়াগাড়ি সীমান্ত চেকপোস্টের প্রায় ২০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে একটি তুষারধসের পর ধ্বংসাবশেষে ভরা বন্যার সৃষ্টি হয় এবং সেটি লেন্দে নদীতে নেমে আসে।
২৫ ও ২৬ আগস্টের স্যাটেলাইট ছবিতে তুষারধস এবং এর ফলে লেন্দে নদীতে সৃষ্ট বন্যার চিত্র ধরা পড়েছে।
বন্যায় ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির পর বুধবার বিকেলে নেপালের জলবিদ্যা ও আবহাওয়া বিভাগ এবং চীনের আবহাওয়া প্রশাসনের কর্মকর্তারা ভার্চ্যুয়াল বৈঠক করেন।
এরপর চীন সম্মত হয়েছে, সীমান্তের তাদের অংশে পানির প্রবাহ বাড়তে শুরু করলে নেপালকে দ্রুত জানানো হবে।
কাগজে চুক্তি আছে, বাস্তবে কার্যকর ব্যবস্থা নেই
দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও জরুরি পরিস্থিতিতে সহযোগিতার বিষয়ে নেপাল ও চীনের মধ্যে আগে থেকেই একটি চুক্তি রয়েছে।
২০১৯ সালে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রদীপ গিয়াওয়ালির চীন সফরের সময় দুই দেশ দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও জরুরি পরিস্থিতিতে সহযোগিতার বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক সই করে।
নেপালের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং চীনের জরুরি ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সই হওয়া ওই চুক্তির উদ্দেশ্য ছিল প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি মোকাবিলায় দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার ভিত্তি তৈরি করা।
২০২২ সালে ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্টের (আইসিআইএমওডি) আয়োজিত আন্তসীমান্ত দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসবিষয়ক এক আলোচনায় পোখরেল—যিনি তখন নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের প্রধান ছিলেন—চুক্তিটিকে নেপাল-চীন সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ওই চুক্তিতে তথ্য আদান-প্রদানের প্ল্যাটফর্ম তৈরি, প্রশিক্ষণকেন্দ্র স্থাপন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ পর্যবেক্ষণ, দুর্যোগ ঝুঁকি কমানোর প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময়সহ নয়টি ক্ষেত্রে সহযোগিতার কথা ছিল।
কিন্তু বুধবারের ভয়াবহ দুর্যোগ কাগজে থাকা চুক্তি এবং বাস্তবে কার্যকর ব্যবস্থার মধ্যে বড় ধরনের ফাঁকটি স্পষ্ট করে দিয়েছে।
সতর্কবার্তা পৌঁছাতে দেরি
বন্যা পূর্বাভাস বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিভাগীয় জলবিদ বিনোদ পারাজুলির মতে, বুধবার সকাল ৮টা ৫৬ মিনিটে বন্যার তথ্য তাদের বিভাগে পৌঁছায়। রাসুওয়া জেলা প্রশাসন কার্যালয় ও জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ওই তথ্য তাদের কাছে আসে।
তথ্য পাওয়ার চার মিনিটের মধ্যেই তারা নদীর নিম্নাঞ্চলের মানুষকে সতর্কবার্তা পাঠায়।
কিন্তু ততক্ষণে বন্যা রাসুওয়ার বিস্তীর্ণ এলাকায় পৌঁছে গেছে।
পারাজুলি জানান, ভোতে কোশি নদীর উজানে স্থাপন করা স্বয়ংক্রিয় বন্যা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রগুলোও পানির স্রোতে ভেসে গেছে।
সাধারণত নদীর পানির উচ্চতা বাড়তে শুরু করলে এসব কেন্দ্র স্বয়ংক্রিয়ভাবে সতর্কবার্তা পাঠায়। কিন্তু এবার বন্যা এত দ্রুত এবং এত প্রবল গতিতে আঘাত হানে যে, সতর্কবার্তা পাঠানোর আগেই পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রগুলো পানির স্রোতে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়।
পারাজুলি বলেন, “কোনো একটি কেন্দ্রও আমাদের সতর্কবার্তা পাঠাতে পারেনি।”
অর্থাৎ, নেপাল নিজ ভূখণ্ডে যে সরঞ্জাম ও ব্যবস্থাপনা কাঠামো তৈরি করেছিল, সেটিও বন্যার আঘাতের আগে কোনো সতর্কতা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। নেপালের সরঞ্জাম ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা সক্রিয় হতে পেরেছে তখনই, যখন বন্যা ইতোমধ্যে দেশের ভেতরে ঢুকে পড়েছে।
‘আমরা রাসুওয়ায় ব্যর্থ হয়েছি’
বন্যা পূর্বাভাস বিভাগ বলছে, নিচের দিকে পাঠানো সতর্কবার্তা অনেক মানুষকে নিরাপদ স্থানে পৌঁছাতে সাহায্য করেছে।
রাসুওয়ার মানুষের কাছে সতর্কবার্তা সময়মতো না পৌঁছালেও নুয়াকোট ও আরও নিচের এলাকার মানুষের কাছে পাঠানো সতর্কবার্তা হয়তো শত শত মানুষের জীবন বাঁচিয়েছে বলে মনে করেন পারাজুলি।
তিনি বলেন, “রাসুওয়ায় আমরা ব্যর্থ হয়েছি। কিন্তু আমরা নুয়াকোট ও নিচের এলাকার জন্য সতর্কবার্তা পাঠিয়েছিলাম। সম্ভবত এর ফলে কয়েক শ মানুষ জীবন বাঁচাতে পেরেছেন।”
পারাজুলির মতে, ঝুঁকিপূর্ণ হিমালয় অঞ্চলে এ ধরনের দুর্যোগ শনাক্ত করার জন্য রিয়েল-টাইম সেন্সর, ক্যামেরা এবং উন্নত পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা প্রয়োজন।
তবে ঝুঁকির উৎস যখন সীমান্তের ওপারে, তখন শুধু নেপালের নিজস্ব সতর্কতা ব্যবস্থা দিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, “প্রথম কাজ হলো সেন্সরের মাধ্যমে কোনো ঘটনা শনাক্ত করা এবং সেই তথ্য সীমান্তের ওপারে দ্রুত ভাগ করে নেওয়া। পাহাড়জুড়ে ব্যাপকভাবে সেন্সর স্থাপন করে কোনো ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গে তথ্য পাওয়া গেলে, আমরা নিচের দিকে থাকা মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট সময় দিতে পারব।”
‘ধ্বংসযজ্ঞের মাত্রা কল্পনাও করা যাচ্ছে না’
কর্তৃপক্ষ দাবি করলেও যে নিচের এলাকার মানুষকে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছিল, বাস্তবে সেটি যথাযথভাবে কাজ করেছে বলে মনে হয়নি। ফলে উত্তরগয়া গ্রামীণ পৌরসভার মানুষ ভয়াবহ বিপদের মধ্যে পড়ে যান।
উত্তরগয়া পাবলিক স্কুলের শিক্ষক সোমলাল দাঙ্গোল বলেন, বন্যার পর শিক্ষার্থীদের বাড়ি পৌঁছে দিতে যাওয়া একটি স্কুলবাসও নিখোঁজ হয়েছে।
তিনি আরও জানান, বেত্রাবতী ও সোলে বাজার পুরোপুরি পানির স্রোতে ভেসে গেছে।
দাঙ্গোল বলেন, “ধ্বংসযজ্ঞের মাত্রা বিশাল। কী ঘটেছে, তা আমরা এখনো ঠিকমতো কল্পনাও করতে পারছি না।”
কাটমণ্ডু পোস্ট/ওয়াইএফ-০১