সিলেট প্রতিক্ষণ



দেশদর্পণ প্রতিবেদক

সেপ্টেম্বর / ১৭ / ২০২৬


সিলেটের পুরনো কারগারে পার্ক ও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর নির্মাণের সিদ্ধান্ত


74

Shares


  • স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচ্চ পর্যায়ের সভায় সিদ্ধান্ত
  • জাদুঘরের নামকরণ হবে রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খানের নামে


সিলেট নগরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত পুরনো কারাগারের জায়গায় নান্দনিক পার্ক ও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। জাদুঘরের নাম হবে রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খান মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর। এজন্য কারাগারের পুরো জমি সিলেট সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর দপ্তরে অনুষ্ঠিত উচ্চ পর্যায়ের এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মশিউর রহমান, কারা মহাপরিদর্শক (ভারপ্রাপ্ত) কর্নেল মোহাম্মদ মোস্তফা কামালসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। 

উন্মুক্ত হবে ব্রিটিশ আমলে আবদ্ধ হওয়া ভূমি: সিলেটের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারটি ১৭৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। আসামের কালেক্টর জন উইলিশ এটি প্রতিষ্ঠান করেন। ১৯৯৭ সালের ৩ মার্চ এটি কেন্দ্রীয় কারাগারে উন্নীত হয়। ২০১৮ সালের ১ নভেম্বর সিলেট শহরতলীর বাদাঘাটে নতুন করে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার উদ্বোধন হয়। পরের বছর ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে পুরনো কারগার থেকে সেখানে বন্দি স্থানান্তর হয়। এরপর থেকে পুরনো কারগারটি সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার-২ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। 

২৩৭ বছর আগে ব্রিটিশ আমলে নির্মিত হওয়ার পর থেকে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের বিশাল ভূমি কার্যত আবদ্ধ হয়ে যায়। উঁচু পাচিল তুলে সেটি সাধারণ মানুষের দৃষ্টি সীমার বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রায় আড়াশ বছর পর সেই ভূমি আবার উন্মুক্ত হচ্ছে সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে। এবার সেই জায়গাই উন্মুক্ত হবে নগরবাসীর জন্য। এখানে থাকবে সবুজের সমারোহ, থাকবে হাঁটার পথ, নির্মল বাতাসে স্বস্তির পরিসর। নগরের ব্যস্ত জীবনে কিছুটা প্রশান্তির জায়গা হবে এই পার্ক।

সিলেটকে গ্রিন ও ক্লিন, নান্দনিক ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তোলার যে প্রত্যয় নেওয়া হয়েছে, নতুন এই পার্ক সেই উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হবে। নগরবাসীর দীর্ঘদিনের চাহিদাও ছিল এমন একটি উন্মুক্ত স্থান। যেখানে শিশু-কিশোররা সময় কাটাতে পারবে। বয়স্করা হাঁটতে পারবেন। পরিবার নিয়ে মানুষ কিছুটা সময় কাটাতে পারবেন।


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ও সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী


যেভাবে অনুমোদন হলো: পুরোনো কারাগারের স্থানে নান্দনিক বিনোদন পার্ক নির্মাণ ছিল সিলেট-১ আসনের সংসদসদস্য খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি। একইভাবে বিভিন্ন সময়ে এই জায়গায় পার্ক নির্মাণের আওয়াজ তুলেছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। তারা দুইজন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বরাবর আধা-সরকারি (ডিও) পত্র দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় উচ্চ পর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করে। কমিটি সরেজমিনে পরিদর্শন করে। সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে ভূমিটি সিলেট সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তরের বিষয়ে প্রতিবেদন দেয়।

আজ বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সভায় সেই প্রতিবেদন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এরপর পার্ক ও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর নির্মাণের জন্য ভূমিটি সিলেট সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তরের বিষয়ে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পুরোনো কারাগারের এই জায়গায় সিটি করপোরেশন কোনো বাণিজ্যিক স্থাপনা বা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারবে না। কারাগারের সব বন্দিকে বাদাঘাটে অবস্থিত কারাগারে স্থানান্তর করা হবে। সেখানে ‘সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার-২’ নামে আরেকটি কারাগার নির্মাণ করা হবে।

থাকবে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর: নান্দনিক পার্কের পাশাপাশি সেখানে নির্মাণ করা হবে রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খান মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর। ফলে জায়গাটি শুধু বিনোদনের কেন্দ্র হবে না। হয়ে উঠবে ইতিহাস ও স্মৃতি সংরক্ষণেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান। নতুন প্রজন্ম এখানে বিনোদনের পাশাপাশি দেশের ইতিহাস জানার সুযোগ পাবে। মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় ইতিহাসের সঙ্গে তাদের পরিচয় আরও গভীর হবে।

সিলেটের কৃতি সন্তান রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খানের নামে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের নামকরণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। মাহবুব আলী খান বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রধান ছিলেন। তার সময়ে দেশের সমুদ্রসীমা রক্ষা, সমুদ্রে জেগে ওঠা দ্বীপের দখল রক্ষা, দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপ বাংলাদেশের দখলে রাখা, সমুদ্র এলাকায় জলদস্যু দমন এবং সুন্দরবন এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে নৌবাহিনীকে সচেষ্ট রাখতে তিনি বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। তিনি বিভিন্নসময় সরকারের যোগাযোগ ও কৃষিমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন। রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানের বাবা। 

এসব তথ্য নিশ্চিত করে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেছেন, ‘পুরনো কারাগারের স্থলে পার্ক ও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং শিল্প, বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।’ তিনি বলেন, ‘নগরবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা এবার বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে। পুরোনো কারাগারের জায়গায় নান্দনিক পার্ক হবে। এক পাশে হবে রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খান মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর।’



ওয়াইএফ/০২

সিলেট প্রতিক্ষণ