154
Sharesপ্রতি বছরই রমজান উপলক্ষে পর্যাপ্ত পরিমাণ নিত্যপণ্য আমদানি করে থাকে ব্যবসায়ীরা। এরপরও রমজান এলে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বিভিন্ন অজুহাতে অস্থিতিশীল করে তুলে ভোগ্যপণ্যের বাজার। আর এতে বিপাকে পড়ে সাধারণ ক্রেতারা।
আবার অনেকসময় আতঙ্কিত হয়ে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি পণ্য কিনে ফেলেন ভোক্তারা; যা বাড়তি চাহিদা সৃষ্টি করে। এই বাড়তি চাহিদারও সুযোগ নিয়ে দাম বাড়ায় এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী। প্রতিবছরের ন্যায় এবারও রমজানে দাম না বাড়ানোর আশ্বাস দিয়েছেন খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা।
তারা বলছেন, এবার তেল, ছোলা, চিনি ও ডালসহ রমজানকেন্দ্রিক নিত্যপণ্য গত বছরের তুলনায় বেশি আমদানি হয়েছে। তাই দাম বৃদ্ধি হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। তবে রাশিয়া-ইউক্রেনের যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে ওই দুই দেশ থেকে আসা পণ্যের দাম রমজানের পরে বৃদ্ধি হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
কাস্টমস সূত্রে জানা যায়, চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ছোলা আমদানি হয়েছে ২ লাখ ২৮ হাজার ৯২১ টন। আর ২০২০-২১ অর্থবছরে আমদানি হয়েছিল ১ লাখ ৩২ হাজার ৯৩৩ টন। একই সময়ে মসুর ডাল আমদানি হয়েছে ৩ লাখ ৯২ টন। আগের বছর আমদানি হয়েছিল ২ লাখ ৮ হাজার ৮১৬ টন।
গত বছর মটর ডাল আমদানি হয়েছিল ২ লাখ ৯০ হাজার ৮৯৭ টন।এবার আমদানি হয়েছে ৩ লাখ ৫৩ হাজার ৭১১ টন। অর্থবছরের প্রথম আট মাসে এখন পর্যন্ত ৪ দশমিক ৫ লাখ টন অপরিশোধিত সয়াবিন তেল এবং ৬ দশমিক ৩ লাখ টন পাম তেল আমদানি করা হয়েছে। এ ছাড়া জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে চার লাখ ৮৮ হাজার ২২১ মেট্রিক টন চিনি আমদানি হয়েছে।
খাতুনগঞ্জ আড়তদার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মহিউদ্দিন আরটিভি নিউজকে বলেন, সব পণ্যের দামই নিম্নগামী। এখনও সেভাবে বিক্রি শুরু হয়নি, আশা করছি বাড়বে। রমজানের চাহিদা অনুযায়ী নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য পর্যাপ্ত পরিমাণ মজুত রয়েছে। বাজারে সরবরাহ ঠিক থাকলে কোনো পণ্যের দামই বাড়বে না।
তবে রাশিয়া-ইউক্রেনের যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে ওই দুই দেশ থেকে আসা পণ্যের দাম রমজানের পর কিছুটা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ব্যবসায়ীদের এই আশ্বাসে ভরসা রাখতে পারছেন না ভোক্তারা।
মো. সোহাগ মিয়া নামে একজন আরটিভি নিউজকে বলেন, ব্যবসায়ীরা এখন দাম না বাড়ার আশ্বাস দিলেও পরবর্তীতে অসাধু ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে দেয়।