56
Sharesসিলেটে হামের প্রকোপে মৃত্যুর মিছিল থামছে না। এবার হামের উপসর্গ নিয়ে জাবেদ (১৭) নামে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। সে হবিগঞ্জ জেলার ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। জাবেদ জেলার নবীগঞ্জ জেলার ফুল মিয়ার ছেলে। এ নিয়ে গত মার্চ মাস থেকে এ পর্যন্ত হামে প্রাপ্ত বয়স্কের মৃত্যুর এটি তৃতীয় ঘটনা
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের পাঠানো প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। এতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হাম রোগে একজনের মৃত্যু হয়েছে। মৃত ব্যক্তির বয়স ১৭ বছর।
সিলেঠ বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সিলেটে হামে শিশু মৃত্যুর সংখ্যাই বেশি। জাবেদ নামে কিশোরের মৃত্যুর আগে আরো দুইজন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে সিলেট। এর মধ্যে গত জুনে ২২ বছর বয়সী মিডওয়াইফারি ইন্টার্ন জেরিন সুলতানা মারা যান। তিনি সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুরের বাসিন্দা ছিলেন এবং সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এরপর গত ৯ আগস্ট হামের উপসর্গ নিয়ে ঝর্না রাণী দাস (১৮) নামে এক কিশোরীর মৃত্যু হয়। ঝর্ণা রাণী হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলার নেপাল পালের মেয়ে। তিনি ২৫০ শয্যার হবিগঞ্জ জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘন্টায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সিলেট বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮২ জন। এর মধ্যে ১৭৯ জনই শিশু। যার মধ্যে ১০ জনের হাম রোগে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুবরণ করাদের মধ্যে সিলেট জেলায় ৭৩ জন, হবিগঞ্জের ২৮, মৌলভীবাজারের ১৫ এবং সুনামগঞ্জ জেলার ৬৬ জন রয়েছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিবেদন অনুযায়ী রবিবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘন্টায় বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে আরো ১২০ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৬৭ জন শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ও৩৬ জন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এছাড়াও মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতাল ১৩ জন, রাগীব রাবেয়া মেডিকেল হাসপাতালে ২ জন এবং সিলেট উইমেন্স মেডিক্যাল হাসপাতাল ও বিশ^নাথ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন করে নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
ওয়াইএফ/০৪