সিলেট প্রতিক্ষণ



দেশদর্পণ প্রতিবেদক,

সেপ্টেম্বর / ২৩ / ২০২৬


সিসিকের নতুন সেবা চালু, হোল্ডিং ট্যাক্স দেওয়া যাবে বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে


77

Shares


প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেটে বাড়ি মালিকদের একটা বড় অংশ থাকেন প্রবাসে। সেখানে থেকে হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধে তাদের নানা ভোগান্তিতে পড়তে হয়। বিশে^র বিভিন্ন প্রান্তে থাকা সিলেট সিটি করপোরেশনের সেইসব নাগরিকরা এখন প্রবাসে বসে সহজেই নিজের বাড়ির হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধ করতে পারবেন। সিসিকের উদ্যোগে এই সুবিধা সংবলিত অনলাইন সেবা চালু হয়েছে। কার্ড কিংবা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে এখন থেকে হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধ করা যাবে।

আজ বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নগর ভবনের সভাকক্ষে সিসিকের নতুন হোল্ডিং ট্যাক্স ব্যবস্থাপনা সিস্টেম ও নাগরিক সেবা পোর্টালের উদ্বোধন করেন সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেছেন, ‘দেশ এগিয়ে যাচ্ছে এবং নাগরিক সেবাও ক্রমেই সহজ ও প্রযুক্তিনির্ভর হচ্ছে। নাগরিকদের সেবা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে দুর্ভোগ কমানো এবং কম সময়ে সহজে সেবা নিশ্চিত করতে চাই আমরা।’ 

তিনি বলেন, ‘সিলেট সিটি করপোরেশন বাংলাদেশের তৃতীয় বৃহত্তম সিটি করপোরেশন। নাগরিকরা সেবার বিনিময়ে যে কর প্রদান করেন, সেটি যাতে সহজে এবং ঘরে বসেই পরিশোধ করতে পারেন, সেব্যবস্থা করা হচ্ছে। মানুষ এখন নানা কাজে ব্যস্ত, কর পরিশোধের জন্য সময় ব্যয় করে ব্যাংকে গিয়ে লাইনে দাঁড়াতে না হয় সেজন্য অনলাইন কর পরিশোধের এ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘এ সেবা চালুর ফলে নগরবাসী ঘরে বসেই কার্ড কিংবা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে হোল্ডিং কর ও বিভিন্ন ধরণের ফি পরিশোধ করতে পারবেন। বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে অবস্থানকারী প্রবাসীরাও অনলাইনে সিসিকের কর ও ফি পরিশোধ করতে পারবেন।’ সেবা যত সহজ হবে, কর পরিশোধে নাগরিকদের আগ্রহ তত বাড়বে। ফলে সিটি করপোরেশনের রাজস্ব আদায়ও বাড়বে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সিসিক প্রশাসক বলেন, ‘আমরা সিসিকের বিভিন্ন সেবাকে একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্মের আওতায় নিয়ে আসার চেষ্টা করছি। এই উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে ভবিষ্যতে সিসিকের অ্যাপ থেকেই নাগরিকরা বিভিন্ন ধরনের সেবা গ্রহণ, কর ও ফি পরিশোধ এবং অভিযোগ জানাতে পারবেন।’

সিসিক সূত্রে জানা গেছে, নতুন পোর্টালে মোবাইল নম্বর দিয়ে নিবন্ধন করে নিজের হোল্ডিং যুক্ত করলে নাগরিকরা মালিকের নাম, গৃহের বিবরণ, বার্ষিক মূল্যায়ন এবং বিভিন্ন বছরের বকেয়া করের তথ্য দেখতে পারবেন। একই সঙ্গে বিল প্রিন্ট করা এবং অনলাইনেই কর পরিশোধের সুবিধা পাওয়া যাবে। সেবাটি ২৪ ঘণ্টা চালু থাকবে।

বিকাশ, নগদ, রকেট ও উপায়ের মতো মোবাইল ব্যাংকিং সেবা, ভিসা ও মাস্টারকার্ডসহ দেশি-বিদেশি কার্ড, ইন্টারনেট ব্যাংকিং এবং বাংলা কিউআর স্ক্যানের মাধ্যমে কর পরিশোধ করা যাবে। পরিশোধ সম্পন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নাগরিকের মোবাইল ফোনে বাংলায় এসএমএসের মাধ্যমে ই-রসিদ পাঠানো হবে। তবে ব্যাংক কাউন্টারে কর পরিশোধের প্রচলিত ব্যবস্থাও আগের মতো চালু থাকবে।

পোর্টালে চলতি বছরের বিলের পাশাপাশি আগের বছরগুলোর বিল ও পরিশোধের তথ্যও দেখা যাবে। প্রয়োজনে পুরোনো রসিদ পুনরায় প্রিন্ট করা যাবে। এছাড়া কর মূল্যায়ন নিয়ে কোনো নাগরিকের আপত্তি থাকলে তা অনলাইনেই দাখিল করার সুযোগ থাকবে।



ওয়াইএফ/০৪

সিলেট প্রতিক্ষণ