88
Sharesখ্যাতিমান শিশুসাহিত্যিক ও চ্যানেল আইয়ের অনুষ্ঠান বিভাগের প্রধান আমীরুল ইসলাম মারা গেছেন। শুক্রবার রাত ১টা ৭ মিনিটে তার মৃত্যু হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আমীরুল ইসলামের আমৃত্যু সহকারী ও ছড়াকার ইমরান পরশ।
ইমরান পরশ বলেছেন, রাত ১টা ৭ মিনিটে আমীরুল ইসলাম ইন্তেকাল করেন। পরে রাত ১টা ৪০ মিনিটে চিকিৎসকরা পরিবারের দায়িত্বশীল সদস্যদের বিষয়টি জানান।
তিনি আরও জানান, আমীরুল ইসলামরে শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে মায়ের কবরে তাকে দাফন করা হবে।
নামাজে জানাজা ও শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য তার মরদেহ কোথায় কোথায় নেওয়া হবে, তা শুক্রবার সকালের মধ্যে জানানো হবে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
আমীরুল ইসলামের জীবন ও কর্ম
১৯৬৪ সালের ৭ এপ্রিল ঢাকার লালবাগে জন্মগ্রহণ করেন আমীরুল ইসলাম। দীর্ঘ সাহিত্যজীবনে তিনি মূলত শিশুদের জন্যই ছড়া, গল্প ও সৃজনশীল রচনা লিখেছেন। তার প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা তিন শতাধিক। এসব বইয়ের প্রায় সবই শিশুসাহিত্যভিত্তিক। তিনি বাংলা একাডেমির ফেলো এবং মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের স্থাপনা-সদস্য ছিলেন।
শিশুসাহিত্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৬ সালে তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন। এ ছাড়া সাহিত্যচর্চায় অবদানের জন্য দেশ-বিদেশের বিভিন্ন পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন তিনি।
বাংলাদেশের বিশিষ্ট ছড়াকার আমীরুল ইসলামের পিতৃব্য হাবীবুর রহমান ছিলেন খ্যাতনামা শিশুসাহিত্যিক। আমীরুল ইসলাম সবচেয়ে কম বয়সে খামখেয়ালি ছড়াগ্রন্থের জন্য পেয়েছেন বাংলাদেশ শিশু একাডেমি আয়োজিত অগ্রণী ব্যাংক শিশুসাহিত্য পুরস্কার।
এ ছাড়া তিনি সিকান্দার আবু জাফর সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৪), নুরুল কাদের শিশুসাহিত্য পুরস্কার (২০০৩), পদক্ষেপ সাহিত্য পুরস্কার (২০০৫), ছোটদের পত্রিকা পুরস্কার (২০০৭), ছোটদের মেলা পুরস্কার (২০০৯-১০), জাতীয় ছড়া উৎসব সম্মাননা (২০১১) এবং শামসুর রাহমান সাহিত্য পুরস্কার (২০১১) লাভ করেন। ২০১১ সালে ওয়েস্ট এন্ড হাইস্কুল পুনর্মিলনী সম্মাননাও পান তিনি। ২০১২ সালে কলকাতা থেকে লাভ করেন অন্নদাশঙ্কর সাহিত্য পুরস্কার।
সাহিত্যের পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে গণমাধ্যমের সাথেও যুক্ত ছিলেন আমীরুল ইসলাম। আমৃত্যু চ্যানেল আইয়ের অনুষ্ঠান বিভাগের প্রধানের দায়িত্ব পালন করেছেন আমীরুল ইসলাম।
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে প্রকাশিত কিশোর-তরুণদের উৎকর্ষধর্মী মাসিক ‘আসন্ন’-এর সম্পাদক ছিলেন তিনি প্রায় ১০ বছর। অধুনালুপ্ত দৈনিক বাংলার প্রথম চার রঙা কিশোর পাতা সম্পাদনার দায়িত্বও পালন করেছেন। তিনি ‘সাপ্তাহিক’-এর প্রকাশক ছিলেন।
কৌতুকপ্রিয়, আড্ডাবাজ, জীবনরসিক, ভোজন ও ভ্রমণপ্রিয় মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি। তার প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা তিন শতাধিক। বাংলাদেশের বিশিষ্ট ছড়াকার আমীরুল ইসলামের পিতৃব্য ছিলেন খ্যাতনামা শিশুসাহিত্যিক হাবীবুর রহমান।