শিক্ষা



ডেস্ক রিপোর্ট

ফেব্রুয়ারী / ০৭ / ২০২২


read books

‘সক্রেটিস-অ্যারিস্টটলের চিন্তার জগত তৈরি হয়েছিল বই পড়া থেকে’


183

Shares

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সিমিন হোসেন রিমি বলেছেন, মানুষের ভেতরে যে মানবিক চেতনা, মূলবোধ, নৈতিকতাবোধ এবং চিন্তার শক্তি জাগ্রত করার মূল উপাদান হচ্ছে বই।

মানুষের সবচেয়ে বড় বন্ধু বই। জগতের সব জ্ঞানী, গুণী মানুষ এ কথা বলে গেছেন। সমৃদ্ধ হওয়া এবং জ্ঞান অর্জনের সবচেয়ে বড় মাধ্যম হচ্ছে বই। সক্রেটিস, অ্যারিস্টোটলসহ সব দার্শনিকের যে চিন্তার জগত তৈরি হয়েছিল সেটি বই পড়া থেকেই।

সক্রেটিসের চিন্তাশক্তিকে একসঙ্গে গ্রন্থিত করেছেন তার শীষ্য প্ল্যাটো। এরপর অ্যারিস্টোটল একই পথ অবলম্বন করেছেন। জাতীয় গণগ্রন্থাগার দিবস উপলক্ষ্যে শনিবার সকালে শাহবাগের সুফিয়া কামাল জাতীয় গণগ্রন্থাগার চত্বরে এক অনুষ্ঠানে রিমি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, একটা দেশের মানুষের সংস্কৃতি, কৃষ্টি-কালচার সবই তৈরি হয় বই পড়া থেকে।

শিশুদের বই পড়ার অভ্যাস গড়তে পাঠাগার স্থাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। সিমিন হোসেন রিনি বলেন, আগে প্রায় প্রতিটি স্কুল-কলেজে গ্রন্থাগার ছিল। এছাড়া পাড়াকেন্দ্রিক পাঠাগার ছিল। সেখানে শিক্ষার্থীরা বই পড়ত। এখন সেটি কমে গেছে। প্রযুক্তির কল্যাণে তরুণদের মনোজগতের যে পরিবর্তন সেটির সঙ্গে জ্ঞানের সমন্বয় করতে হলে গ্রন্থাগার করতে হবে।

তিনি বলেন, আগে স্কুলের লাইব্রেরী গুলো গতিশীল ছিল। এখন তা বন্ধই থাকে। দেশের স্কুলের লাইব্রেরীগুলো যাতে গতিশীল হয়ে ওঠে সে বিষয়ে সরকার নতুন করে কাজ শুরু করেছে। জাতীয় গণগ্রন্থাগার চত্বরে বেলুন উড়িয়ে দিবসের উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান খান। পরে শওকত ওসমান স্মৃতি মিলনায়তনে দিবসটি উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। মুখ্য আলোচক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য সভার মুখ্য আলোচক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবুল মনসুর। স্বাগত বক্তব্য রাখেন গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু বকর সিদ্দিক।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান খান বলেন, গ্রন্থাগার যত সমৃদ্ধ হবে দেশ তত এগিয়ে যাবে। জঙ্গিবাদ, হানাহানি দূর করতে গ্রন্থাগার কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে। সেজন্য উপজেলা পর্যায়ে সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার গড়ে তুলতে হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, গ্রন্থই মানুষকে মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে। মানুষের, জাতির এবং রাষ্ট্রের গড়ে ওঠার পেছনে বই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সংস্কৃতি মনস্ক জাতি গঠনে বইয়ের বিকল্প নেই। গ্রন্থাগার হচ্ছে জ্ঞানের ভান্ডার। তরুণ প্রজন্মকে লাইব্রেরি মুখী করে তুলতে হবে। এতে আমরা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সংস্কৃতি মনস্ক হিসেবে গড়ে তুলতে সক্ষম হবো। তরুণ প্রজন্মকে ফেসবুক বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের খারাপ প্রভাব কাটিয়ে বইমুখি করার জন্য দেশজুড়ে সময়োপযোগী কার্যক্রম গ্রহণ জরুরি বলে মত দেন তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ব্রিটিশ কাউন্সিল, বিল গেটস ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় দেশজুড়ে বই পাঠের উপযোগী পরিবেশ গড়ে তুলতে কার্যক্রম পরিচালতি হচ্ছে। একবিংশ শতাব্দীতে যে ডিজিটাল যুগে প্রবেশ করেছি তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে গ্রন্থ ও গ্রন্থাগারগুলোকে যুগোপযোগী ও আধুনিক করে গড়ে তুলতে হবে।

তরুণ প্রজন্মের সামনে ডিজিটাল বই তুলে দিতে হবে। সেইসঙ্গে লাইব্রেরিমুখী করে তুলতে হবে। তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্ম পড়াশোনা করে, গ্রন্থাগারও ব্যবহার করে। কিন্তু এসব পড়াশোনার প্রধান লক্ষ্য চাকরি পাওয়া। লাইব্রেরিকে বিশ্বের জ্ঞানের আধার হিসেবে ব্যবহারের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে না। এ বাধা কাটাতে আমাদের সচেষ্ট হতে হবে।

স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয়ের চাইতে বেশি জরুরি একটি সমৃদ্ধ লাইব্রেরি। মানুষের মনের অন্ধকার দূর করে গ্রন্থপাঠ। চাকরিমুখী পড়াশোনার বাইরে জ্ঞান ও মুক্তমনের মানুষ হয়ে গড়ে ওঠা বেশি জরুরি। মো. আবুল মনসুর বলেন, সংস্কৃতি শুধু শিল্পকলার চর্চার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। একটি দেশ ও জাতিকে গড়ে তুলতে সমৃদ্ধ রুচিশীল জনগোষ্ঠী গড়ে তুলতে সংস্কৃতি প্রধান মাধ্যম।

শিক্ষা