113
Sharesব্রাজিলের ইতিহাস বলে, জাপানের বিপক্ষে তাদের ভয় পাওয়ার কথা নয়। দুই দল এখন পর্যন্ত ১৪ বার মুখোমুখি হয়েছে। ব্রাজিল জিতেছে ১১টি ম্যাচ, ড্র হয়েছে দুটি। পরিসংখ্যানের ভাষায় এটি একতরফা আধিপত্য। কিন্তু নকআউট ফুটবলে ইতিহাস খুব কমই ম্যাচ জেতায়। বরং খেলোয়াড়রা অনেক সময় সবচেয়ে বেশি মনে রাখে সর্বশেষ ফলটিকেই। আর সেই স্মৃতিটা ব্রাজিলের জন্য সুখকর নয়।
গত বছরের অক্টোবরে জাপান ৩-২ গোলে হারিয়েছিল ব্রাজিলকে। সেটিই ছিল ইতিহাসে প্রথমবার, যখন সূর্যোদয়ের দেশের দলটি সেলেসাওদের পরাজিত করে। এমন একটি ফলাফল ছোট মনে হলেও, বড় টুর্নামেন্টের নকআউট ম্যাচের আগে এটি মানসিকভাবে বাড়তি আত্মবিশ্বাস এনে দেয়। জাপান বিশ্বাস করবে, তারা ব্রাজিলকে হারাতে পারে। ফুটবলে এই বিশ্বাসের মূল্য অনেক।
তবে ব্রাজিলেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র আছে, যার নাম নেইমার। তিনি শুরু থেকেই মাঠে নামবেন না। কাফের চোট থেকে ধীরে ধীরে ফিরে আসছেন। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ ১৪ মিনিট খেলেই তিনটি গোলের সুযোগ তৈরি করেছিলেন। সেটি কেবল তাঁর ব্যক্তিগত মানের প্রমাণ নয়, বরং ম্যাচের গতি বদলে দেওয়ার ক্ষমতা এখনও অটুট আছে, সেই ইঙ্গিতও।
কার্লো আনচেলত্তি জানিয়ে দিয়েছেন, আজও নেইমারের খেলার সময় সম্ভবত ১৫ মিনিটের বেশি হবে না। কিন্তু কখনও কখনও নকআউট ম্যাচে ১৫ মিনিটই যথেষ্ট। বিশেষ করে যখন ক্লান্ত ডিফেন্সের বিপক্ষে একজন সৃজনশীল ফুটবলার মাঠে নামেন, তখন একটি পাস, একটি ফাউল আদায় কিংবা একটি মুহূর্তের অনুপ্রেরণাই পুরো ম্যাচের গতিপথ বদলে দিতে পারে।
স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে নেইমারের সংক্ষিপ্ত উপস্থিতি ব্রাজিলকে শুধু ট্যাকটিক্যাল সুবিধাই দেয়নি, মানসিক শক্তিও দিয়েছে। সতীর্থরা আবারও অনুভব করেছে, প্রয়োজনে এমন একজন খেলোয়াড় বেঞ্চে অপেক্ষা করছেন, যিনি এক মুহূর্তেই ম্যাচের চিত্র পাল্টে দিতে পারেন। এই কারণেই আজকের ম্যাচে নেইমারের ভূমিকা হয়তো সময়ের হিসেবে ছোট হবে, কিন্তু প্রভাবের হিসেবে সবচেয়ে বড়ও হতে পারে।
এখন দেখার বিষয়, ব্রাজিল কি তাদের হেক্সা মিশনের পথে আরেক ধাপ এগিয়ে যেতে পারে, নাকি জাপান আবারও প্রমাণ করবে, আধুনিক ফুটবলে অতীতের পরিসংখ্যানের চেয়ে বর্তমানের বিশ্বাস অনেক বেশি শক্তিশালী।
ওয়াইএফ/০২