170
Sharesউপমহাদেশের দলগুলোর জন্য দক্ষিণ আফ্রিকা বরাবরই এক কঠিন পরীক্ষা। সেখানে ভালো করতে হলে নিজেদের সেরাটা খেলার বিকল্প দেখছেন না টাইগার অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। তবে মূল লড়াইয়ের আগে মাঠের অনুশীলনের চেয়ে মানসিক প্রস্তুতিতে বেশি জোর দিচ্ছেন সাকিব।
রোববার রাতে দক্ষিণ আফ্রিকার উদ্দেশে দেশ ছাড়ার আগে বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমরা ওখানে হয়ত ৫-৬ দিন ট্রেনিং করতে পারবো, কিন্তু এতে তো খুব বেশি উন্নতির জায়গা থাকবে না। মানসিকভাবে যতটা প্রস্তুতি নিতে পারব আমাদের জন্য তত ভালো হবে। আমার এবং দলের সবাইকেই দায়িত্ব নিতে হবে।
আমি ভালো করলাম দল খারাপ করল সেটাও ভালো না আবার অন্য কেউ পারফর্ম করল আমি করলাম না এটাও ভালো কিছু না। সবাই যদি একসঙ্গে পারফর্ম করি তাহলে ভালো করা সম্ভব।’ প্রোটিয়াদের বর্তমান দলের বেশিরভাগ ক্রিকেটারই নবাগত। তবে নিজেদের চেনা কন্ডিশনে নতুনদের গড়া দক্ষিণ আফ্রিকাকে হালকাভাবে নেয়ার সুযোগ দেখছেন না সাকিব। তিনি বলেন, ‘নতুনভাবে দল হলেও এখন ভারসাম্যপূর্ণ দল হয়ে গেছে। হয়ত কিছুদিন আগে সংগ্রাম করছিল, কিন্তু ইদানীং টেস্ট ওয়ানডে সব ফরম্যাটেই পারফরম্যান্স খুবই ভালো। ওরা ইতোমধ্যে একটি ভারসাম্যপূর্ণ দল।
যদি আমাদের জিততে হয়, খুবই ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে।’ কিছুদিন আগেই ঘরের মাঠে ভারতকে নাকানি-চুবানি খাইয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। টেস্টে ২-১ এবং ওয়ানডেতে ৩-০তে জিতেছে প্রোটিয়ারা। সাকিব বলেন, ‘ভারতের বিপক্ষে সর্বশেষ সিরিজে দক্ষিণ আফ্রিকা খুবই ভালো খেলেছে। ওয়ানডেতে তিনটা ম্যাচই তারা জিতেছে। আমাদের জন্য অবশ্যই চ্যালেঞ্জিং। আমাদের বোলিং ডিপার্টমেন্টকে অনেক ভালো করতে হবে।
হোমে আমরা ভালো বোলিং করি কিন্তু অ্যাওয়ে সিরিজগুলোতে অনেক সংগ্রাম করতে হয়। শুধু স্পিনার না, ফাস্ট বোলারদের জন্যও চ্যালেঞ্জিং। ওয়ানডেতে নতুন বলে বোলাররা যদি উইকেট নিতে না পারে, স্পিনারদের জন্য আরও কঠিন হয়ে যাবে।’ দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচের ফল নিজেদের অনুকূলে নিতে ব্যাটিং, বোলিংয়ের সঙ্গে ভালো ফিল্ডিংয়েও জোর দিচ্ছেন সাকিব। তিনি বলেন, ‘একজন আরেকজনকে সাহায্য করতে পারলে ভালো ফলাফল সম্ভব। এখানে অনেক বেশি উন্নতির জায়গা আছে।
একইসঙ্গে ব্যাটিংও ভালো করতে হবে। বড় মাঠে ফিল্ডিংও অনেক সময় বাজে হয়। তিন বিভাগেই অনেক ভালো করতে হবে, ওদের সঙ্গে ভালো করতে হলে।’ নিউজিল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট জয় বিদেশে ভালো করার আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে। সাকিব কিউই সফর থেকে অনুপ্রেরণা খুঁজছেন, ‘আমিও মনে করি এটা থেকে অনুপ্রাণিত হওয়া উচিৎ। নিউজিল্যান্ডের মত কঠিন এক কন্ডিশনে যেহেতু ভালো করেছি, হোক সেটা অন্য একটা ফরম্যাট, তারপরও আমার ধারণা এটা ওয়ানডেতে অনুপ্রাণিত করবে।’
১৮ই মার্চ তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে প্রোটিয়াদের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। পরের দুই ম্যাচ যথাক্রমে ২০ ও ২৩শে মার্চ। দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজের প্রথম টেস্ট শুরু হবে ৩১শে মার্চ ডারবানে। এরপর ৮ই এপ্রিল পোর্ট এলিজাবেথে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট খেলতে নামবে দু’দল। ওয়ানডে সিরিজটি ‘আইসিসি ওয়ানডে সুপার লীগ’ এবং টেস্ট সিরিজটি ‘আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ’র অংশ। এই সফরে অন্তত একটা হলেও জয় পেতে চান সাকিব। তিনি বলেন, ‘প্রত্যাশা তো থাকবে যেন আমরা জিততে পারি।
সিরিজ জিততে পারলে খুবই ভালো। তবে একটা ম্যাচও যদি জিততে পারি, আমার মনে হয় খুব ভালো একটা অর্জন হবে। পুরো দলেরই একই রকম লক্ষ্য থাকবে।’