104
Sharesফুটবল বিশ্বকাপের মৌসুমে পৃথিবীটা যেন অন্য এক ছন্দে বাঁচে। কোথাও লিওনেল মেসির বাঁ পায়ের জাদু নিয়ে তর্ক, কোথাও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর শেষ বিশ্বকাপ ঘিরে আবেগ। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত টেলিভিশনের পর্দা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, চায়ের দোকান কিংবা অফিসের আড্ডা, সবখানেই ফুটবলের রাজত্ব। এই সময়টাতে ক্রিকেট সাধারণত খবরের শিরোনামে আসে না।
কিন্তু এবার এসেছে। তবে কোনো অবিশ্বাস্য জয়ের জন্য নয়। কোনো নতুন প্রতিভার উত্থানের জন্যও নয়। বরং এমন এক ঘটনার কারণে, যা বাংলাদেশের ক্রিকেটকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট প্রশাসনের আলোচনায় এনে দাঁড় করিয়েছে।
আর সেই ঘটনার কেন্দ্রীয় চরিত্র বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিয়ান, বিসিবির সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল।
তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) কাছে একটি দীর্ঘ চিঠি লিখে বাংলাদেশের জন্য বরাদ্দ উন্নয়ন তহবিল স্থগিত রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন। শুধু তাই নয়, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তাকে নেতৃত্ব দেওয়া বোর্ড পুনর্বহাল না হলে বাংলাদেশের পূর্ণ সদস্যপদ স্থগিত করা এবং আইসিসির টুর্নামেন্ট থেকে বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ার মতো ব্যবস্থাও বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন।
এক মুহূর্তের জন্য সব বিতর্ক পাশে রাখা যাক। শুধু একটি প্রশ্ন ভাবুন। বিশ্ব ক্রিকেটে এমন কতটি উদাহরণ আছে, যেখানে একটি দেশের সাবেক বোর্ড সভাপতি নিজ দেশের ক্রিকেটের অর্থায়ন বন্ধের আবেদন করেছেন?
প্রশ্নটির উত্তর যতটা কঠিন, তার চেয়েও কঠিন এর অভিঘাত। কারণ এই চিঠি কোনো ব্যক্তিগত অভিযোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি বাংলাদেশের ক্রিকেটকে নিয়েই আন্তর্জাতিক পরিসরে প্রশ্ন তোলার একটি আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ।
আমিনুল ইসলাম বুলবুল অবশ্য প্রথমে পুরো বিষয়টি অস্বীকার করেছিলেন। ভিডিও বার্তায় তিনি বলেছিলেন, এ ধরনের খবর 'সম্পূর্ণ মিথ্যা'। কিন্তু পরে তার স্বাক্ষরসংবলিত চিঠির কপি প্রকাশ্যে আসে। সেখানে শুধু বর্তমান বোর্ডকে অবৈধ বলা হয়নি, আইসিসির কাছে সুনির্দিষ্টভাবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের তহবিল স্থগিত রাখা এবং প্রয়োজনে সদস্যপদ স্থগিতের আহ্বানও জানানো হয়েছে।
সেখানেই এই ঘটনাটি আর সাধারণ প্রশাসনিক বিরোধের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। এটি হয়ে ওঠে জাতীয় ক্রিকেটের প্রশ্ন।
মিরপুরের শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের প্রেসবক্সে দীর্ঘদিন কাজ করলে একটা বিষয় বুঝতে পারবেন। খেলা নিয়ে লেখালেখির পাশাপাশি সেখানে আড্ডা-গল্পেও মেতে থাকে, সেসব আড্ডা থেকেই তৈরি হয় কতশত সংবাদ-কনটেন্ট। বিতর্কও জন্ম নেয়। অনেক সময় গুঞ্জন সত্যি হয়, আবার অনেক সময় সেগুলো সময়ের সঙ্গে মিলিয়ে যায়।
গত কয়েক মাস ধরে সেখানে একটি প্রশ্ন বারবার ঘুরে ফিরে এসেছে। আমিনুল ইসলাম বুলবুলকে কি সত্যিই বাংলাদেশের ক্রিকেটকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, নাকি তার সিদ্ধান্তগুলো শেষ পর্যন্ত ক্রিকেটকেই পিছিয়ে দিয়েছে?
এটি অবশ্য কোনো প্রতিষ্ঠিত সত্য নয়। কিন্তু ক্রিকেটাঙ্গনের অনেকের আলোচনায় প্রশ্নটি বারবার এসেছে। কারণ ঘটনাগুলোর ধারাবাহিকতা অনেকের কাছেই অস্বস্তিকর।
প্রথম বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছিল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত সফর ঘিরে। নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশ দল টুর্নামেন্টেই অংশ নেয়নি। নিরাপত্তা অবশ্যই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কোনো দলের জীবন ঝুঁকিতে ফেলে ক্রিকেট খেলা যায় না। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছিল অন্য জায়গায়।
যদি সত্যিই এমন গুরুতর নিরাপত্তা শঙ্কা থেকে থাকে, তাহলে কি একটি স্বাধীন নিরাপত্তা মূল্যায়ন দল পাঠানো যেত না? আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এমন নজির নতুন নয়। বহু দেশ নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ পাঠিয়ে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করেছে। তারপর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
কিন্তু বাংলাদেশ সে পথে হাঁটেনি। ফলে নিরাপত্তার যুক্তির চেয়েও বেশি আলোচিত হয়েছে সিদ্ধান্তটির রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দিক। আজ যখন সেই একই ব্যক্তি আইসিসির কাছে বাংলাদেশের অর্থায়ন স্থগিত করার আবেদন করেন, তখন স্বাভাবিকভাবেই আগের ঘটনাগুলোও নতুন করে আলোচনায় চলে আসে। কারণ মানুষ ঘটনাকে আলাদা আলাদা করে দেখে না। মানুষ ধারাবাহিকতা দেখে।
ধরা যাক, আমিনুল ইসলাম বুলবুলের অভিযোগ সত্য। ধরা যাক, তিনি সত্যিই মনে করেন তাকে অন্যায়ভাবে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। একজন নাগরিক হিসেবে সেই অভিযোগ আদালতে নেওয়ার অধিকার তার আছে। আইসিসির কাছেও তিনি অভিযোগ জানাতে পারেন। এইটুকু পর্যন্ত কোনো আপত্তি নেই।
আপত্তি শুরু হয় ঠিক তার পরের জায়গা থেকে। কেননা তিনি শুধু নিজের পুনর্বহালের আবেদন করেননি। তিনি এমন একটি ব্যবস্থার আহ্বান জানিয়েছেন, যার প্রভাব পড়তে পারে বাংলাদেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যতের ওপর।
এখানেই সবচেয়ে বড় ভুল বোঝাবুঝিটা হয়। অনেকেই মনে করেন, আইসিসির অর্থ মানেই বোর্ড পরিচালকদের সুবিধা। আসলে বিষয়টি তা নয়।
আইসিসির উন্নয়ন তহবিলের বড় অংশ ব্যয় হয় বয়সভিত্তিক ক্রিকেট, নারী ক্রিকেট, জেলা পর্যায়ের উন্নয়ন, কোচ ও আম্পায়ার তৈরির প্রকল্প, অবকাঠামো এবং গ্রাসরুট ক্রিকেটে।
অর্থাৎ এই অর্থ আটকে গেলে সবচেয়ে বড় ক্ষতি হবে না কোনো বোর্ড পরিচালকের। ক্ষতি হবে সেই কিশোরের, যে অনূর্ধ্ব-১৭ দলে সুযোগ পাওয়ার স্বপ্ন দেখছে। ক্ষতি হবে সেই মেয়েটির, যে জেলা শহরের মাঠ থেকে জাতীয় দলের জার্সি পরার স্বপ্ন নিয়ে প্রতিদিন অনুশীলন করে। ক্ষতি হবে বাংলাদেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যতের। এই জায়গাতেই এসে প্রশাসনিক লড়াই আর ব্যক্তিগত থাকে না। এটি হয়ে ওঠে একটি দেশের ক্রিকেটের প্রশ্ন। আর সম্ভবত সে কারণেই বিসিবির কয়েকজন পরিচালক প্রকাশ্যে এই পদক্ষেপকে 'বিশ্বাসঘাতকতা' বলেও মন্তব্য করেছেন।
তবে এই গল্প এখানেই শেষ নয়। বরং এখান থেকেই শুরু হয় আরও বড় প্রশ্ন।
একসময় যাকে অনেকেই বিদেশ থেকে আসা একজন ত্রাণকর্তা ভেবেছিলেন, যিনি বাংলাদেশের ক্রিকেটে নতুন অধ্যায় লিখবেন বলে আশা করেছিলেন, সেই মানুষটিকে ঘিরে কেন এত অল্প সময়ের মধ্যে এত বিতর্ক তৈরি হলো? আর কেনই বা আজ মিরপুরের করিডোরে সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত নামটি কোনো উদীয়মান ক্রিকেটারের নয়, বরং একজন সাবেক বোর্ড সভাপতির?
আমিনুল ইসলাম বুলবুল যখন দায়িত্ব নিয়েছিলেন, তখন তাকে ঘিরে প্রত্যাশার কমতি ছিল না। বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট অধিনায়ক। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের দীর্ঘদিনের কর্মকর্তা। প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা আছে। বিশ্ব ক্রিকেটের সঙ্গে যোগাযোগ আছে। অনেকেই ভেবেছিলেন, দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে তিনি হয়তো বাংলাদেশের ক্রিকেটে নতুন সংস্কৃতির সূচনা করবেন।
কিন্তু সময় যত গড়িয়েছে, প্রত্যাশার জায়গা দখল করেছে প্রশ্ন। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলতে না যাওয়া দিয়ে শুরু। এরপর বোর্ড পরিচালনা নিয়ে নানা অভিযোগ। তারপর নির্বাচন ঘিরে সংঘাত। আর সবশেষে আইসিসিকে লেখা সেই চিঠি।
একটি ঘটনা হয়তো বিচ্ছিন্ন হতে পারে। দুটি ঘটনাও কাকতালীয় হতে পারে। কিন্তু যখন একের পর এক বিতর্ক একই মানুষকে ঘিরে তৈরি হতে থাকে, তখন মানুষ স্বাভাবিকভাবেই ঘটনাগুলোকে এক সুতোয় গাঁথতে শুরু করে। সেখান থেকেই জন্ম নেয় সন্দেহ।
আরেকটি বিষয় এই বিতর্ককে আরও জটিল করে তুলেছে। আইসিসিকে লেখা চিঠির খবর প্রকাশ হওয়ার পর ভিডিও বার্তায় আমিনুল ইসলাম বুলবুল দাবি করেছিলেন, তিনি এমন কোনো চিঠি লেখেননি।
কিন্তু পরে তার স্বাক্ষরসংবলিত চিঠিই প্রকাশ্যে আসে। একজন প্রশাসকের সবচেয়ে বড় সম্পদ তার বিশ্বাসযোগ্যতা। কোনো সিদ্ধান্তের সঙ্গে মানুষ একমত নাও হতে পারে। কিন্তু যদি তার বক্তব্য ও নথির মধ্যে অসঙ্গতি দেখা যায়, তাহলে প্রশ্ন তৈরি হবেই। আর নেতৃত্বের জায়গায় দাঁড়িয়ে বিশ্বাস হারানোই সবচেয়ে বড় ক্ষতি।
আরও একটি বিষয় মনে পড়ে। বাংলাদেশে দায়িত্ব নেওয়ার আগে যখন তাকে নিয়ে জোর আলোচনা চলছিল, তখন এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, তিনি নাকি স্ত্রীর জমি বিক্রির কাজে দেশে এসেছেন। পরে অবশ্য পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে গড়ায়। তিনি বোর্ড সভাপতির দায়িত্ব নেন।
এরপর দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজের জীবনযাপন নিয়েও তার কিছু বক্তব্য বিতর্কের জন্ম দেয়। কোথায় থাকতেন, কীভাবে থাকতেন, তা নিয়ে নানা আলোচনা হয় ক্রিকেটাঙ্গনে।
এসবের সবকিছু হয়তো খুব বড় বিষয় নয়। কিন্তু নেতৃত্বে থাকা মানুষের ক্ষেত্রে ছোট ছোট প্রশ্নও সময়ের সঙ্গে বড় হয়ে যায়। কারণ নেতৃত্ব শুধু সিদ্ধান্ত দিয়ে টিকে থাকে না। বিশ্বাস দিয়েও টিকে থাকে।
তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি এখনও রয়ে গেছে। আইসিসি কি সত্যিই এই আবেদনকে গুরুত্ব দেবে?
আমার মনে হয়, সম্ভাবনা খুবই কম। কারণ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট প্রশাসন ব্যক্তির চেয়ে প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করে। কোনো বোর্ডে নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক হতে পারে। আদালতে মামলা চলতে পারে। সরকার বদলাতে পারে। প্রশাসনিক টানাপোড়েনও হতে পারে। কিন্তু শুধু একজন সাবেক সভাপতির অভিযোগের ভিত্তিতে কোনো পূর্ণ সদস্য দেশের অর্থায়ন বন্ধ করে দেওয়া কিংবা সদস্যপদ স্থগিত করা আইসিসির জন্য অত্যন্ত বড় সিদ্ধান্ত।
বিশেষ করে যখন সেই সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়বে ক্রিকেটার, কোচ, নারী ক্রিকেট, বয়সভিত্তিক দল এবং পুরো ক্রিকেট কাঠামোর ওপর।
আরেকটি বাস্তবতাও আছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট প্রশাসন সম্পর্কের ওপরও দাঁড়িয়ে থাকে। বোর্ড পরিচালনার সময় আমিনুল ইসলাম বুলবুলের সঙ্গে আইসিসি, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড এবং বিশ্ব ক্রিকেটের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী প্রশাসকের সম্পর্ক আগের মতো উষ্ণ ছিল না বলেই ক্রিকেটাঙ্গনে আলোচনা রয়েছে।
সে কারণে তার এই আবেদন আইসিসির টেবিলে কতটা গুরুত্ব পাবে, তা নিয়েও অনেকের সংশয় আছে। হয়তো চিঠিটি নথিভুক্ত হবে। হয়তো নিয়ম অনুযায়ী উত্তরও দেওয়া হবে। কিন্তু সেখান থেকে বাংলাদেশের ক্রিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি বলে মনে হয় না।
তবু এই ঘটনাকে হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি দেশের ভাবমূর্তি শুধু তার মাঠের পারফরম্যান্সে তৈরি হয় না। তৈরি হয় তার প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা দিয়েও।
বিশ্বকাপ চলার সময় আমরা চেয়েছিলাম, বাংলাদেশের ক্রিকেট আলোচনায় আসুক নতুন কোনো প্রতিভা দিয়ে। কোনো অসাধারণ ইনিংস দিয়ে। কোনো দুর্দান্ত বোলিং স্পেল দিয়ে। অথচ খবরের শিরোনামে এলাম আমরা একটি আইনি চিঠির কারণে। এটাই সবচেয়ে বড় হতাশা।
ক্রিকেটে মতভেদ থাকবে। নির্বাচন নিয়ে বিরোধ থাকবে। আদালত থাকবে। আইসিসির কাছেও অভিযোগ যাবে। এসবই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ।
কিন্তু একটা সময়ের পরে প্রশ্নটা আর ব্যক্তি বনাম ব্যক্তি থাকে না। সেটি হয়ে যায় দেশ বনাম ক্ষতি। একজন বোর্ড সভাপতি আসবেন, চলে যাবেন। একটি সরকার যাবে, আরেকটি সরকার আসবে। একটি বোর্ড ভেঙে যাবে, আরেকটি বোর্ড গঠিত হবে। কিন্তু বাংলাদেশের ক্রিকেট যদি আঘাত পায়, সেই ক্ষতি পূরণ করতে অনেক বছর লেগে যায়।
ইতিহাস বারবার একটি শিক্ষা দেয়। ব্যক্তিগত লড়াইয়ে জয়ী হওয়া খুব বড় অর্জন নয়। সবচেয়ে বড় অর্জন হলো, সেই লড়াইয়ের মাঝেও নিজের প্রতিষ্ঠানকে রক্ষা করা। কারণ প্রতিষ্ঠান বেঁচে থাকলে মানুষ ফিরে আসতে পারে। কিন্তু মানুষকে বাঁচাতে গিয়ে যদি প্রতিষ্ঠানই ভেঙে পড়ে, তাহলে শেষ পর্যন্ত জেতে কেউই না।
বাংলাদেশের ক্রিকেট আজ ঠিক সেই প্রশ্নের সামনেই দাঁড়িয়ে। ব্যক্তির লড়াই বড়, নাকি দেশের ক্রিকেট?
এই প্রশ্নের উত্তর হয়তো আইসিসি দেবে না। সময়ই দেবে।