158
Sharesমেহেদী হাসান অনুশীলনে এসেছিলেন নিজের অফ স্পিন বোলিংটা ঝালিয়ে নিতে। কিন্তু মুনিম শাহরিয়ারের বেধড়ক পিটুনিতে অফ স্পিন বাদ দিয়ে তিনি রীতিমতো মিডিয়াম পেস বোলিং শুরু করেন! মুনিমের মার তবু থামেনি। কাল মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের ইনডোরের অনুশীলন উইকেটে মুনিমের বিধ্বংসী ব্যাটিং দেখছিলেন প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গো ও ব্যাটিং কোচ জেমি সিডন্স। মুনিমের ব্যাট থেকে গুলির মতো ছুটে আসা বলগুলো যে তাঁদের দিকেই ধেয়ে আসছিল! এবারের বিপিএলের আবিষ্কার ব্যাটসম্যান মুনিমের বাংলাদেশ দলে অভিষেক হতে পারে আজ আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টি–টোয়েন্টি দিয়ে এবারের বিপিএলের আবিষ্কার ব্যাটসম্যান দুই কোচই অবশ্য মুনিমের এমন ব্যাটিং উপভোগ করছিলেন।
টি-টোয়েন্টির ব্যাটিং পাওয়ারপ্লের সমাধান যে মনে করা হচ্ছে তাঁকেই! আফগানিস্তানের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে আজ তাই অভিষেকও হয়ে যেতে পারে তাঁর। টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ কাল সে আভাসই দিলেন। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলছিলেন, ‘মুনিমের ভালো সুযোগ আছে কাল (আজ)। এখনই নির্দিষ্ট করে বলতে পারব না কে খেলবে। আমরা উইকেটটা আজ (গতকাল) দেখলাম। এরপর পরিকল্পনা করব, ব্যাটিং অর্ডার কীভাবে সাজাব।
’ এবারের বিপিএলের ড্রাফটে দল না পাওয়া ডানহাতি ওপেনার মুনিমকে পরে দলে নেয় ফরচুন বরিশাল। কিন্তু করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ায় শুরু থেকে খেলতে পারেননি তিনি। পরে সুস্থ হয়ে ৬ ম্যাচে ব্যাটিং করেছেন ১৫২ স্ট্রাইক রেটে। মুনিমকে দলে নেওয়ার প্রসঙ্গে কাল প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন বলছিলেন, বিসিবি হাই পারফরম্যান্স বিভাগেও সাদা বলের জন্যই প্রস্তুত করা হয়েছে মুনিমকে। এবার টি–টোয়েন্টি দলও সেটারই সুফল পাওয়ার অপেক্ষায়। টি–টোয়েন্টির জন্য দীর্ঘদিন ধরেই মুনিমের মতো মারকুটে একজনের সন্ধানে ছিল বাংলাদেশ দল। গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও সে অভাব হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে বাংলাদেশের ব্যাটিং। প্রতি ম্যাচেই পাওয়ারপ্লের ছয় ওভারে ব্যাটিংটা ছিল হতাশাজনক।
টুর্নামেন্টের ৮ ম্যাচে প্রথম ছয় ওভারে বাংলাদেশের রানের গড় ছিল ৩২। এবার সুযোগ পেলে এ সমস্যার একটা সমাধান হতে পারে মুনিমের মারকাটারি ব্যাটিং। সঙ্গে ছন্দে থাকা লিটন দাসও ফেরায় দ্রুত রান তোলার কাজটা সহজ হতে পারে আরও। অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ অবশ্য সব দায়িত্বই টপ অর্ডারের ওপর চাপাতে চান না। উইেকট যেহেতু ব্যাটিং উপযোগী, টপ অর্ডার ব্যর্থ হলেও অভিজ্ঞ মিডল অর্ডার দলকে বিপর্যয়ে পড়তে দেবে না বলেই আশা তাঁর, ‘প্রতিদিন টপ অর্ডার ভালো শুরু করবে না।
মিডল অর্ডারকে সেসব দিনে ম্যাচ টেনে নিতে হবে। টপ অর্ডার ভালো করলেও সেটাকে ধরে রাখতে হবে মিডল অর্ডারকেই। বড় রান করার দায়িত্বটা কিন্তু পুরো দলের।’