178
Sharesইউক্রেনে জেঁকে বসেছে রাশিয়ান সৈন্যবাহিনী। রাজধানী কিয়েভ দখলের পর এবার দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর খারকিভে হামলা চালিয়েছে তারা। রাশিয়ার আগ্রাসনের প্রতিবাদ জানিয়ে দেশটির দুই ফুটবল ক্লাবের কোচের দায়িত্ব ছাড়লেন লিভারপুলের সাবেক ফুটবলার আন্দ্রিই ভরোনিন এবং জার্র্মান কোচ মার্কাস গিসডল। ইউক্রেনিয়ান ভরোনিন রাশিয়ান ক্লাব দিনামো মস্কোর সহকারী কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
আর লোকোমোতিভ মস্কোর কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন মার্কাস গিসডল। ৪২ বছর বয়সী ভরোনিনের চাকরি ছেড়ে দেয়ার খবরটি নিশ্চিত করে দিনামো মস্কো। এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ক্লাবটি জানায়, ‘ফুটবল ক্লাব দিনামো ও সহকারী কোচ আন্দ্রিই ভরোনিন নিজেদের চুক্তি বাতিলের ব্যাপারে সম্মত হয়েছেন।’ যুদ্ধ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রাশিয়া ছেড়ে জার্মানিতে পাড়ি জমান ভরোনিন। সেখানে জার্মান সংবাদমাধ্যম বিল্ডকে নিজের সিদ্ধান্তের ব্যাপারে জানিয়েছেন তিনি।
একইসঙ্গে জার্মানিকে আহ্বান জানিয়েছেন তার দেশ ইউক্রেনকে সাহায্য করার জন্য। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সমালোচনা করে ভরোনিন বলেন, ‘তাকে থামান। শরণার্থীদের সাহায্য করুন। অস্ত্র পাঠান যাতে আমরা আমাদের রক্ষা করতে পারি। আমি আমার দেশ নিয়ে গর্বিত। আমাদের সুন্দর শহর আছে, অসাধারণ মানুষ আছে। আমরা লড়ে যাবো। এবং আমরা জিতব। কিন্তু সেই বিজয় অর্জন করার জন্য যে মূল্য দিতে হবে, তা অনেক বেশি। আমরা ২০২২ সালে বাস করি, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে না।’
ইউক্রেনের দুর্দশা দেখে কোনো ভয়ানক সিনেমার মতো মনে হচ্ছে ভরোনিনের কাছে। তিনি বলেন, ‘চারদিন যাবত আমি অসুস্থ। আমি যখনই আমার মাতৃভূমির ছবি দেখছি, অনেক খারাপ লাগছে। ভীতিকর কোনো চলচ্চিত্রের মতো অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছে সবকিছু। আমি যদি এখন ইউক্রেনে থাকতাম, আমার হাতেও এখন হয়তো অস্ত্র থাকতো। ’ ভরোনিন বলেন, ‘মস্কো পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার আগেই আমরা বেরিয়ে আসি। আমরা সরাসরি ডুসেলডর্ফে আসতে পারিনি, তাই আমস্টারডাম হয়ে আসতে হয়েছে আমাদের।
আমার বাবা, মা, স্ত্রী-সন্তান এখন আমার সঙ্গেই আছে।’ ২০০২ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত টানা দশ বছর ইউক্রেনের জাতীয় দলে খেলেছেন ভরোনিন। ২০০৭ সালে জার্মান ক্লাব বায়ার লেভারকুজেন ছেড়ে যোগ দেন লিভারপুলে। দিনামো মস্কোর হয়েও খেলেছেন তিনি। খেলোয়াড়ি জীবন শেষে সেই ক্লাবেই কোচিং ক্যারিয়ার শুরু করেন ভরোনিন।
এদিকে মার্কাস গিসডল লোকোমোতিভ মস্কোর পদ ছাড়ার কথা জানালেও ক্লাবের দাবি, তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। জার্মান গণমাধ্যম বিল্ডকে দেয়া সাক্ষাৎকারে গিসডল জানান, ইউক্রেনে রাশিয়ার অমানবিক আগ্রাসনের প্রতিবাদ জানাতে প্রধান কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন তিনি। গিসডল বলেন, ‘আমি এমন একটি দেশে কাজ চালিয়ে যেতে পারি না, যে দেশের নেতা ইউরোপের একটি দেশে আগ্রাসন চালাচ্ছে।
আমার মূল্যবোধের সঙ্গে যা কোনোভাবেই যায় না। তাই আমি অবিলম্বে পদত্যাগ করেছি।’ গিসডল জানান, রাশিয়ার অন্যায় আক্রমণের পরও মস্কোর একটি ক্লাবের দায়িত্ব পালন করতে তার বিবেকে বাধা দিয়েছে।