68
Sharesসিলেটের সড়ক যোগাযোগ, ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও নিরাপদ পানি সরবরাহ উন্নয়নে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে দুর্যোগ-সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণে আরও প্রায় ৮ কোটি ৭০ লাখ টাকার একটি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। এসব তথ্য জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
সিলেট সদর উপজেলার রাজারগাঁও জামিয়ুল উলুম মাদ্রাসায় শনিবার দুপুরে বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক, দুস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে জিআর চাল ও নগদ অর্থ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় টেকসই অবকাঠামো গড়ে তোলাই সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের প্রধান লক্ষ্য। এ উদ্দেশ্যে সামাজিক নিরাপত্তা, কৃষি, সেচ, যোগাযোগ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় একাধিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।’
তিনি জানান, সিলেট বিভাগের বিভিন্ন সড়কের উন্নয়ন, নতুন সড়ক নির্মাণ, প্রয়োজনীয় ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং টিউবওয়েল স্থাপনের জন্য প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে।
কৃষি উন্নয়নের প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী বলেন, ‘সাময়িক জলাবদ্ধতা কিংবা সেচের পানির অভাবে যেসব জমি বছরের একটি সময় অনাবাদি থাকে, সেগুলোকে চাষাবাদের আওতায় আনতে সরকার কার্যকর উদ্যোগ নিচ্ছে। খাল খনন কর্মসূচি আরও সম্প্রসারণের মাধ্যমে সেচব্যবস্থা শক্তিশালী করা হবে, যাতে সিলেটের কৃষিজমিতে সারা বছর চাষাবাদ সম্ভব হয়।’
সরকারি সহায়তা কর্মসূচির তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘এ কর্মসূচির আওতায় প্রায় দুই হাজার উপকারভোগীকে ৩০ কেজি করে চাল এবং প্রায় ৭০০ জনকে জনপ্রতি এক হাজার টাকা করে নগদ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।’
মন্ত্রী আরও জানান, রাজারগাঁওয়ে নির্মিতব্য তিনতলা বন্যা আশ্রয়কেন্দ্রটি সাধারণ সময়ে মাদ্রাসা হিসেবে ব্যবহৃত হবে। আর বন্যা বা অন্য কোনো দুর্যোগের সময় এটি নারী, শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের উপযোগী করে নির্মাণ করা হবে।
সিলেট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোশনূর রুবাইয়াতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাশেমসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।