176
Shares‘তোমাকে টাকা দেব ওদের মেরো না। কিন্তু এর আগেই মনে হয় যা ঘটার ঘটে গেছে।’ মঙ্গলবার অন্তঃসত্ত্বা রিতু চক্রবর্তী বাবা রাম প্রসাদ চক্রবর্তী এ কথা বলেন। প্রিয়তমা স্ত্রী ও অন্তঃসত্ত্বা মেয়ের রক্তাক্ত লাশের কাছে অসহায় এক স্বামী এবং নিরুপায় এক বাবা তিনি।
শান্ত স্বভাবের রাম প্রসাদ এতটাই হতভম্ব হয়ে আছেন যে; ঘটনার পর থেকে চিৎকার করে কাঁদতেও পারছেন না। এর আগে বেলা ৩টার দিকে নারায়ণগঞ্জের নিতাইগঞ্জে ডাইলপট্টি এলাকার একটি বহুতল ভবনের ষষ্ঠ তলার ফ্ল্যাটে থেকে নিহত মা ও তার অন্তঃসত্ত্বা মেয়ের লাশ উদ্ধার করা হয়। রাম প্রসাদ জানান, ঘাতকের সঙ্গে তিনি কথাও বলেছিলেন। আর্তি জানিয়েছিলেন। আমার সঙ্গে কারও শত্রুতা নেই বা ছিলও না।
কেন এই হত্যার ঘটনা সে ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না। আমি খবর পেয়ে এসে দেখি আমার বাড়ির নিচে ও ফ্ল্যাটে পুলিশ। তিনি জানান, আমার একটি ছেলে ও এক মেয়ে। ছেলে হৃদয় চক্রবর্তী কয়েক মাস আগে মুসলিম হয়েছে এবং ফারজানা নামের একটি মেয়েকে বিয়ে করেছেন। আমরা প্রথমে বিষয়টি মেনে নিইনি কিন্তু পরে মেনে নিয়েছি।
গত কয়েক দিন থেকে পুত্রবধূ ফারজানা এ ফ্ল্যাটেই থাকছেন। নিহত রিতু চক্রবর্তী সাড়ে ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন বলে জানিয়েছেন তার বাবা রাম প্রসাদ চক্রবর্তী জানান, মেয়ে অন্তঃসত্ত্বা থাকায় সে আমার বাড়িতে এসেছিল। তার স্বামী শ্যামল চক্রবর্তী চট্টগ্রামে পুরানো গাড়ির ব্যবসা করেন। তিনি জানান, বাড়ির সামনে পুলিশ ও এলাকাবাসীর জটলা দেখে স্ত্রীর মোবাইল ফোনে ৩/৪ বার কল দিলে অপরপ্রান্ত থেকে ঘাতক জোবায়ের বারবার টাকা ও স্বর্ণালংকার কোথায় আছে তা জানতে চাচ্ছিল। টাকা স্বর্ণালংকার দিলে খুন করবে না বলেও জানাচ্ছিল জোবায়ের। তখন বলেছিলাম তোমাকে টাকা দেবো ওদের মেরো না।
তিনি বলেন, আমি বিচার চাই। আমার তো সব শেষ। আমার স্ত্রী, সন্তান, অনাগত নাতিকে হত্যা করেছে। আমি তো ঘাতক জোবায়েরকে দেখিও নাই কোনদিন। আমি বিচার চাই। মঙ্গলবার বেলা ৩টার দিকে নারায়ণগঞ্জের নিতাইগঞ্জে ডাইলপট্টি এলাকার একটি বহুতল ভবনের ষষ্ঠ তলার ফ্ল্যাটে মা ও তার অন্তঃসত্ত্বা মেয়েকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়।
নিহতরা হলেন রুমা চক্রবর্তী (৪৫) ও রিতু চক্রবর্তী (২২)। রিতু চক্রবর্তী সাড়ে ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন বলে জানিয়েছেন তার বাবা রাম প্রসাদ চক্রবর্তী। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর সহায়তায় পুলিশ ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে ঘাতক জোবায়েরকে (৩৫) ছুরিসহ আটক করে। সে নগরীর পাইকপাড়া এলাকার বাসিন্দা।