এক্সক্লুসিভ



দেশদপর্ণ প্রতিবেদক

অক্টোবর / ০৩ / ২০২৬


তৌফিক ইমরোজ খালিদী : সহযোদ্ধা, সহকর্মী, গুণমুগ্ধদের শোকগাথা


85

Shares


বাংলাদেশের অনলাইন গণমাধ্যমের পতিকৃৎ, দেশের প্রথম অনলাইন সংবাদমাধ্যম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী মারা গেছেন। শুক্রবার লন্ডনের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর কীর্তিমান এই সাংবাদিককে স্মৃতিচারণ, শোকগাথায় ভরে উঠে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ফেইড। এসব শোকগাথা থেকে কিছু তুলে রাখা হলো দেশদর্পণ-এর পাঠকদের জন্য-


জাকির তালুকদার, কথাসাহিত্যিক

তৌফিক ইমরোজ খালিদী ভাইয়ের মৃত্যু নানা কারণে আমাদের কাছে শোকাবহ। শুধু বাংলাদেশ নয়, এই উপমহাদেশে অনলাইন পোর্টালের পথিকৃৎদের মধ্যে তিনি একজন। তার বিডিনিউজ ২৪.কম সবসময়ই মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষদের একত্রিত রাখার কাজটি করেছে। (মূর্খরা বলে ভারতীয় ন্যারেটিভ)। তিনি মূর্খদের কথায় কর্ণপাত করেননি।. 

একটি ঘটনার কথা মনে পড়ছে। তখন প্রথম আলো-র দোর্দণ্ড প্রতাপ। দেশের লেখাপড়া জানা মধ্যবিত্ত সমাজ তখন প্রথম আলো-র নির্দেশিত পথে খায়, বাথরুম করে, চিন্তা করে। সেই সময় প্রথম আলো একটি স্লোগান প্রচার করত-- বদলে যান বদলে ফেলুন।

তখন ইমরোজ ভাইয়ের পোর্টাল পাল্টা প্রচার শুরু করে-- সবকিছু বদলাতে নেই। কিছু মূল্যবোধ এবং আদর্শ শাশ্বত।

দারুণ লেগেছিল।

তার মৃত্যুতে যদি পত্রিকাটি বন্ধ হয়ে যায়, তা জাতির পাশাপাশি আমার নিজেরও ক্ষতির কারণ হবে। কারণ পড়ার জন্য এবং লেখার জন্য যে হাতেগোনা কয়েকটি পত্রিকা আছে, তাদের একটিকে হারানোর ক্ষতি আদৌ কোনোদিন পূরণ হবে কিনা জানা নেই।


আহমেদ নূর, আবাসিক সম্পাদক, আগামীর সময়


চলে গেলেন তৌফিক ইমরোজ খালিদী। অসময়ে, অবেলায়। বাংলাদেশের সাংবাদিকতা জগতে এ এক বিশাল ক্ষতি।

আরও অনেক কিছু দেওয়ার ছিল তাঁর।

একজন সাহসী, দূরদর্শী, সময়ের চেয়ে এগিয়ে থাকা সাংবাদিকের চিরপ্রস্থান খুব কষ্ট দিচ্ছে।

যখনই কোথাও সাংবাদিকতার ক্লাস নিতে যাই যার উক্তি বেশি উল্লেখ করি তিনি ছিলেন খালিদী।

আমরা তো সমসাময়িকই। বরং বয়সে তিনি কিছুটা ছোটও। কিন্তু সাংবাদিকতায় ছিলেন মগডালে। কিসের এত তাড়া ছিল? অনেক হেনস্থার শিকার হয়েছন কিন্তু মাথানত করেননি। 

অনন্তলোকে ভাল থাকুন এই প্রার্থনা।


লুৎফর রহমান হিমেল, সম্পাদক, সমালোচক, লেখক

বিডিনিউজে ‘চমৎকার চব্বিশ’ দিনের এক অবিস্মরণীয় স্মৃতি

তৌফিক ইমরোজ খালিদী ভাই আর নেই, সংবাদটি পাওয়ার পর থেকেই মনটা বিষন্নতায় ডুবে আছে। কিছু পুরনো স্মৃতিও প্রতি মুহূর্তে এসে হৃদয়কিনারে আছড়ে পড়ছে।

তার সাথে আমার সরাসরি কাজ করার সুযোগ হয়েছিল মাত্র ২৪ দিন। সময়টা ২০০৬ সালের দিককার। আমি তখন 'প্রথম আলো'তে সাব-এডিটর হিসেবে কর্মরত। থাকি লালমাটিয়ায়, আর তখন ধানমন্ডিতে বিডিনিউজের কার্যালয়। মফস্বল বিভাগে কাজ করি বলে বিকেল ৫টায় অফিস ছুটির পর ফ্রিই থাকি বলা চলে।

আমি পেশায় সাংবাদিক হলেও স্বভাবগতভাবেই সংগঠন-বিমুখ মানুষ। ফলে নিজের পত্রিকা অফিস ছাড়া অন্য কোনো সংবাদমাধ্যমের হাউজে আমার যাওয়া-আসা ছিল না বললেই চলে। যারা সাংবাদিক সংগঠন করেন বা সক্রিয়, তারা নির্বাচনের সময় তো বটেই, সারা বছরই বিভিন্ন হাউজে যাতায়াত করেন। আমি ঠিক তার বিপরীত মেরুর মানুষ। এমনকি শহরের কোন এলাকায় কোন পত্রিকার অফিস, তাও অনেক সময় বলতে পারি না। সেই আমিই একদিন এমনি ঘুরতে ঘুরতে গিয়ে আমার বাসার কাছের বিডিনিউজ অফিসে হাজির হলাম। বাসার কাছে না হলে হয়তো যাওয়া হতো না।

সেখানেই প্রথম দেখা হলো চমৎকার একজন মানুষের সাথে। কথা বলে জানলাম, তিনিই বিডিনিউজের সম্পাদক, তৌফিক ইমরোজ খালিদী। বয়সে তরুণ এক সংবাদকর্মীর সাথে সেদিন তিনি যেভাবে কথা বললেন, যে উষ্ণতা দেখালেন, এক কথায় তা অবিশ্বাস্য!

ঘটনাটির একটি বিশেষ স্মৃতি আজও আমার স্পষ্ট মনে আছে। মনে আছে তৌফিক ভাইয়ের সাথে সেদিনের কিছু কথাবার্তাও। সেদিন আমি পরেছিলাম একটি চমৎকার হলুদ রঙের চেক শার্ট। যারা আমাকে চেনেন বা ফেসবুকে যুক্ত আছেন, তারা হয়তো জানেন আমি বেশ ফ্যাশন সচেতন একজন মানুষ। আরেকটি কথা বলি, আমার আয়ের একমাত্র উৎস সাংবাদিকতার চাকরির বেতন। আর এই বেতনের একটা বড় অংশই বেহিসাবিভাবে খরচ করি ফ্যাশনে! সেদিনের সেই শার্টটিও আমার খুব পছন্দের ছিল।

তৌফিক ভাই নিজেও ছিলেন অত্যন্ত ফ্যাশনপ্রিয় মানুষ। কথার এক ফাঁকে আমার শার্টের দিকে তাকিয়ে বললেন, “আপনার শার্টটি তো দারুণ! কোথা থেকে কিনেছেন?” আমি ব্র্যান্ড ও দোকানের নাম বললাম। তিনি হাসিমুখে জানালেন, তিনিও এই শার্টটি কিনবেন। যদিও সেটা পাওয়ার কথা নয়, কারণ ওই ব্র্যান্ডটি প্রতিটি ডিজাইনের একটিমাত্র পোশাকই তৈরি করত।

শার্টের সেই আড্ডা থেকেই তিনি হঠাৎ আমাকে বিডিনিউজে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়ে বসলেন।

আমি বললাম, “তৌফিক ভাই, এ মুহূর্তে প্রথম আলো ছাড়তে চাচ্ছি না। কাজ শেখার জন্য আরও কয়েক বছর সেখানে থাকা উচিত।”

তৌফিক ভাই কয়েক সেকেন্ড ভেবে বললেন, “তাহলে পার্টটাইম করেন!”

আমি তখন হিসাব কষে বললাম, “আমার অফিস তো ছুটি হয় বিকেল ৫টায়। বের হতে হতে ৬টা বাজে। কারওয়ান বাজার থেকে ধানমন্ডি আসতেই ৭টা বেজে যাবে।”

তিনি তৎক্ষণাৎ বললেন, “কোনো অসুবিধা নেই! আপনি রাত ৭টা থেকে ১০টা পর্যন্ত এখানে সময় দেবেন। আর আপনার চা-নাস্তার চমৎকার ব্যবস্থাও থাকবে।”

আলাপের এ পর্যন্ত আমি যতটুকু অবাক হয়েছিলাম, আসল চমকটা বাকি ছিল বেতনের কথায় এসে। তিনি বললেন, প্রথম আলোয় আমি পুরো মাসে যে বেতন পাই, বিডিনিউজে কেবল এই তিন ঘণ্টা কাজের জন্যই আমাকে সেই সমপরিমাণ বেতন দেওয়া হবে!

আমি তখন সদ্য বিবাহিত এক যুবক। জীবনে কোনোদিন টাকাকড়ির প্রতি বাড়তি লোভ ছিল না, তবে নতুন সংসারে শালা-শালী আর নতুন আত্মীয়-স্বজনদের এন্টারটেইন করতে গিয়ে পকেটে একটু বাড়তি টাকার টানাটানি যে চলছিল তা স্বীকার করছি। ফলে এমন প্রস্তাবে মন যে কিছুটা সায় দিয়েছিল, তা অস্বীকার করার জো নেই!

রাজী হয়ে গেলাম। শুরু হলো আমার পার্টটাইম সাংবাদিকতা।

কিন্তু বিপত্তি বাঁধলো কিছুদিন পর। দুই হাউজে দিনে ১২-১৩ ঘণ্টা একই ধরনের সম্পাদনার কাজ করতে গিয়ে কাজে মারাত্মক একঘেয়েমি চলে এলো। আমি ১৬ ঘণ্টাও কাজ করতে পারবো যদি সে কাজে বৈচিত্র্য থাকে। একদিন মানে মাসের চব্বিশ তম দিন গিয়ে তৌফিক ভাইকে সোজা বললাম, “ভাই, আমি আর কন্টিনিউ করতে পারছি না।”

তিনি শুনে মন খারাপ করে আফসোস করলেন। বললেন, “তিন ঘণ্টা না পারলে অন্তত দুই ঘণ্টা থাকেন, তাও আপনাকে পাশে চাই।” কিন্তু নিজের সীমাবদ্ধতার কারণে শেষ পর্যন্ত আর থাকা সম্ভব হয়নি। তিনি আমার পার্টটাইম চাকরির শেষ দিনে বললেন, “কোনোদিন প্রথম আলো ছাড়লে বিডিনিউজে আপনার জন্য দরজা খোলা থাকবে।”

এদিকে মাস শেষে বেতন তোলার সময় এল। যখন বেতনের হিসাব করতে গেলাম, মনে মনে ভাবছিলাম, ২৪ দিনে আর কতই বা পাবো! কিন্তু অ্যাকাউন্টসে গিয়ে যা দেখলাম, তাতে চোখ কপালে ওঠার জোগাড়! তৌফিক ভাই অ্যাকাউন্টসকে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়ে রেখেছিলেন, আমাকে যেন পুরো মাসের পুরো বেতনটাই বুঝিয়ে দেওয়া হয়!

এরকম সারপ্রাইজ যে একজন উঠতি সাংবাদিকের মনোজগতে কতটা প্রভাব ফেলে, সেটি তারাই বলতে পারবেন যারা পেয়েছেন। মনটা ভরে গেল। বিডিনিউজ অফিস থেকে চলে এলাম ঠিকই, একরাশ মুগ্ধতাও সাথে করে নিয়ে এলাম।

একজন উদীয়মান তরুণ সাংবাদিকের মেধা ও যোগ্যতার মূল্যায়ন কীভাবে করতে হয়, আর অনুজদের কীভাবে ভালোবাসতে হয়, ২৪ দিনের সেই সংক্ষিপ্ত সান্নিধ্যে তৌফিক ভাই আমাকে তা শিখিয়ে গিয়েছিলেন।

২০০৬ সালের সেই ‘চমৎকার চব্বিশ দিনের’ পর আর নানা ব্যস্ততায় গত বিশ বছরে তৌফিক ভাইয়ের সাথে দেখা হয়নি, কথাও হয়নি। নগরের নাগরিক ব্যস্ততা এমনই নিষ্ঠুর যে, এর নাগপাশ থেকে রক্ষা পায় না কেউই। গণযোগাযোগের মানুষ তৌফিক ভাই আজ সকল যোগাযোগের বাইরেই চলে গেলেন মাত্র ঊনষাট বছর বয়সে।



মাসুদ পারভেজ, ক্রীড়া সম্পাদক, দৈনিক কালের কণ্ঠ

একেবারেই নতুন ধারার হওয়ায় সংবাদমাধ্যমটি শুরু থেকে ধুঁকছিল। নিয়মিত থেকে বেতন অনিয়মিত হয়ে গেল তাই। তবে দেশের একটি শীর্ষস্থানীয় মোবাইল অপারেটরের সঙ্গে বিশাল অঙ্কের চুক্তিতে দিন বদলাতেও সময় লাগেনি। কিন্তু হঠাৎ এক ঝড়ে আবার সব লণ্ডভণ্ড। বিশাল সাইজের লাগাতার বিজ্ঞাপনে খবরের কাগজগুলো যখন সেই মোবাইল অপারেটরের কেলেঙ্কারি ধামাচাপা দিচ্ছে, তখন দেশের প্রথম অনলাইন সংবাদপত্র বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম তা প্রকাশ্য করে দেয়। বলা ভালো সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদীর একার সিদ্ধান্তে জালিয়াতি ফাঁস হয়ে যায়। আরো বড় চুক্তির প্রলোভন উপেক্ষা করে, প্রতিষ্ঠানের আর্থিক কাঠামো ভেঙে পড়তে পারে জেনেও তিনি ছিলেন আপোষহীন। বিডিনিউজে যোগ দেওয়ার পর ওই ঘটনায় প্রথম বুঝতে পারি এই লোক মাথা নোয়াবার নন। 

দেশের আরো অনেক সংকটের সময়েও তিনি অবিচল ছিলেন বলে বিশ্বাসযোগ্য গণমাধ্যম হিসেবে বিডিনিউজ ক্রমেই ওপরে ওঠার সিঁড়ি ভেঙেছে। তাতে কর্মীদের কষ্ট বেড়েছে। তাঁর সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রতিষ্ঠানের ভেতরে ভিন্নমতও ছিল অনেক। কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতায় জানি, নিয়মিত বেতন দিতে না পারার যন্ত্রণায় তিনি নিজেও কম কাতর হতেন না। বেতন না হওয়া পর্যন্ত নিউজরুমের ত্রিসীমানায় তিনি ঘেঁষতেন না। বেতন হয়ে গেলেই আবার তাঁর অন্যরূপ। যথারীতি চালু হয়ে যেত তাঁর বকা-ঝকা আর ঝারি। ওয়ান ইলেভেনের সময়কার একটি ঘটনা পরিষ্কার মনে করতে পারি। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নতুন সভাপতি হচ্ছেন মেজর জেনারেল সিনা ইবনে জামালী - এই খবর সবার আগে নিয়ে বসে আছি কিন্তু তৌফিক ভাই কিছুতেই লিখতে দিচ্ছেন না। লিখতে দেবেন যদি খবরে দায়িত্বশীল কারো এবিষয়ক বক্তব্য থাকে। ওই সময়ে কার ঘাড়ে কয়টা মাথা যে খবরটি নিশ্চিত করে বক্তব্য দেবেন! অবশেষে খবরটি লেখার সুযোগ আসে, তবে সেটি সরকারি প্রজ্ঞাপন হওয়ার পরে। অবশ্য এর আগে-পরে 'নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক' সূত্রের বরাত দিয়ে খবর লিখে অনেককেই ধরা খেতে দেখেছি, আমার নিজেরও আছে সে অভিজ্ঞতা। তাই তৌফিক ভাইয়ের ওই নিউজ আটকানোর মধ্যেও আমি দেখতাম তাঁর চিরচেনা সেই আপোষহীনতা। 

আরো অনেক কারণেই তিনি ভোলার নন। ২০০৬ সালের ২৭ অক্টোবর শফিক রেহমানের দৈনিক যায়য়ায়দিন থেকে আমরা শতাধিক সাংবাদিক চাকরিচ্যূত হলাম। এই দেশে যেসব সাংবাদিকদের চাকরি যায়, তারাই কেবল জানে আগের বেতনের চেয়ে অনেক কম অঙ্কের প্রস্তাবের বাস্তবতা। বিডিনিউজে চাকরির সম্ভাবনার সঙ্গে আমাদের মধ্যে তাই এই আতঙ্কও উঁকি দেয় যে না জানি কত কমে যোগ দিতে বলে! কারণ এরকম সুযোগ নিতে দেখেই আমরা অভ্যস্ত। কিন্তু মোস্তফা মামুন ভাইয়ের নেতৃত্বে তৌফিক ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে জানলাম এখানেও তিনি ব্যতিক্রম। তিনি সুযোগ নিলেন না, আমাদের বেতনও কমালেন না বরং আরো বাড়িয়ে দিলেন। যায়যায়দিনে আমরা যে যা বেসিক পেতাম, তার সঙ্গে আরো ৩০ শতাংশ যোগ করে দিলেন তৌফিক ভাই। দু:সময়ে যোগ্যতাকে কেউ এভাবে সন্মান করতে পারে, এর আগে সেটাই তো আমি কিংবা আমরা কেউ জানতাম না। 

এরকম প্রথম অনেক কিছুই জানিয়েছিলেন তৌফিক ভাই। যেমন তাঁকেই প্রথম বলতে শুনেছিলাম যে ছাপার কাগজের চাহিদা কমিয়ে একসময় জাকিয়ে বসবে অনলাইন। এখন ঠিক সেই রমরমা সময়েও আগের মতোই ধুঁকছে তাঁর প্রতিষ্ঠান। কারণ তৌফিক ভাই নিজেই। আগের মতোই অনেক কিছুতে আপোষ করতে চাননি যে! তাঁর চলে যাওয়াটা তাই আরো অনেক কিছুরও চলে যাওয়া। এরকম এক চরিত্র যে কিনা মাথা নোয়ায় না। বর্তমান বাস্তবতায় এরকম ব্যতিক্রম আর চোখেও পড়বে না তেমন। তৌফিক ভাইয়ের এই ছবিটাও তাই শুধু ছবি নয়, সত্যিকারের এক সাংবাদিকের প্রতিরূপও!



এক্সক্লুসিভ