55
Sharesদীর্ঘ চার মাসেরও বেশি সময় পর আবার চালু হলো বহুল প্রতীক্ষিত সিলেট-ম্যানচেস্টার সরাসরি ফ্লাইট। সোমবার (৬ জুলাই) যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রথম ফ্লাইট সিলেট এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের মধ্য দিয়ে পুনরায় চালু হয় এই রুটের যাত্রীসেবা।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট ইএ-২০৮ নির্ধারিত সময়ের প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিট আগেই সিলেটে পৌঁছায়। দীর্ঘ বিরতির পর প্রথম ফ্লাইট হওয়ায় বিমানবন্দরে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। ফুল দিয়ে যাত্রীদের স্বাগত জানান বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।
হজ মৌসুমে উড়োজাহাজ সংকটের কারণে প্রায় চার মাস আগে এই রুটের ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল। তবে রুটটি বন্ধ হওয়ার পর থেকেই যুক্তরাজ্যপ্রবাসী, বিশেষ করে সিলেটি প্রবাসীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়। ম্যানচেস্টারসহ যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শহরে বসবাসরত প্রবাসীরা দেশে ও বিদেশে মানববন্ধন, স্মারকলিপি প্রদানসহ নানা কর্মসূচির মাধ্যমে সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালুর দাবি জানিয়ে আসছিলেন।
সরকারও হজ মৌসুম শেষে এই লাভজনক রুট পুনরায় চালুর আশ্বাস দিয়েছিল। সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হিসেবে সোমবার আবারও চালু হলো সিলেট-ম্যানচেস্টার সরাসরি বিমান যোগাযোগ।
বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা বলেন, “আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের নির্দেশেই আজ এই ফ্লাইট সিলেটে এসেছে। সিলেটবাসীর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ আন্তরিকতা রয়েছে। সেই কারণেই প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের এই দাবি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে।”
ভবিষ্যতে এই রুট আবারও বন্ধ হওয়ার কোনো আশঙ্কা আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, “আমরা কোনো আন্দোলনও চাই না। আমরা চাই যে রুটটা চালু করেছি, সেটা চালুই থাকবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এটি চালু হয়েছে। তাই এটি বন্ধ হওয়ার কোনো অবকাশ নেই।”
তিনি জানান, বিমান বহরে নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত করার কাজ চলছে। নতুন এয়ারক্রাফট হাতে এলে ফ্লাইট পরিচালনায় আর সংকট থাকবে না।
মন্ত্রী বলেন, “আমরা ইতোমধ্যে বিমান লিজ নিচ্ছি। নতুন এয়ারক্রাফট চলে এলে এই রুট বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা আর থাকবে না।”
লন্ডনের হিথ্রো থেকে ঢাকা ও সিলেটগামী ফ্লাইটের ভাড়ার পার্থক্য নিয়েও কথা বলেন তিনি। মন্ত্রী জানান, প্রবাসীদের অভিযোগ সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।
তিনি বলেন, “রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের কথা মাথায় রেখে ভাড়া আরও কমানো যায় কি না, সে বিষয়ে আমরা কাজ করছি।”
সিলেট-ঢাকা রুটে টিকিটের উচ্চমূল্য এবং সিন্ডিকেটের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা দূর করতে সময় লাগবে। তবে মধ্যবিত্ত যাত্রীরা যাতে স্বস্তিতে ভ্রমণ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।
সিলেট-কক্সবাজার রুট পুনরায় চালুর বিষয়েও ইতোমধ্যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
এ সময় সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সম্প্রসারণ প্রকল্প নিয়েও কথা বলেন আফরোজা খানম রিতা। তিনি জানান, বিমানবন্দরের সম্প্রসারণকাজ চলমান রয়েছে এবং ২০২৭ সালের মধ্যে এর কাজ শেষ হওয়ার আশা করা হচ্ছে। এরপর এটি আরও আধুনিক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে গড়ে উঠবে।
একই সঙ্গে সিলেটকে পর্যটনের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। তার ভাষায়, শুধু বিমান যোগাযোগ নয়, পর্যটন খাতের উন্নয়নেও সরকার সমান গুরুত্ব দিচ্ছে।
সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালু হওয়ায় সবচেয়ে বেশি স্বস্তি পেয়েছেন যুক্তরাজ্যপ্রবাসী সিলেটিরা। এতদিন ম্যানচেস্টার থেকে ঢাকায় নেমে সেখান থেকে আলাদা ফ্লাইটে সিলেট যেতে হতো, যা বিশেষ করে বয়স্ক ও অসুস্থ যাত্রীদের জন্য ছিল বড় ভোগান্তির কারণ। নতুন করে সরাসরি ফ্লাইট চালু হওয়ায় সেই দীর্ঘ ভ্রমণ ও অতিরিক্ত ঝামেলা থেকে মুক্তি মিলল তাদের।