সিলেট প্রতিক্ষণ



শাবিপ্রবি প্রতিনিধি

অগাস্ট / ০২ / ২০২৬


চায়ের দোকানে আড্ডায় এইচএসসির উত্তরপত্র দেখছিলেন শিক্ষক, ৪০০ খাতা জব্দ


100

Shares


সিলেটে একটি চায়ের দোকানে বসে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেওয়ার পাশাপাশি উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়ন করছিলেন শিক্ষক। খবর পেয়ে সেখানে হানা দিয়ে শিক্ষকের কাছ থেকে ৪০০ উত্তরপত্র জব্দ করেছেন সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড কর্মকর্তারা। 

শনিবার (১লা আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক সংলগ্ন একটি চায়ের দোকানে এ ঘটনা ঘটে। 

অভিযুক্ত শিক্ষক ইকবাল হোসেন সোহান সিলেটের মেট্রোসিটি উইমেন্স কলেজের প্রভাষক ও সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের একজন পরীক্ষক। তিনি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের সাবেক শিক্ষার্থী।



একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী বলেছেন, ‘রাত সাড়ে ১০টার দিকে শিক্ষক ইকবাল তার বন্ধুদের নিয়ে চা দোকানে বসে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের উত্তরপত্র মূল্যায়ন করছিলেন। এ সময় তার দুই বন্ধুকেও খাতা কাটতে দেখা যায়। আর পাশেই ছিল চালের বস্তাভর্তি পরীক্ষার খাতা।’

ঘটনাস্থলে উপস্থিত আরেক প্রত্যক্ষদর্শী আক্ষেপ করে বলেন, ‘শুক্রবার বৃষ্টির কারণে শাবিপ্রবির প্রধান ফটকের পাশের একটি টং দোকানে আশ্রয় নিয়েছিলাম। সেখানে দেখলাম দুজন ছেলে ও দুজন মেয়ে চা-সিগারেট খেতে খেতে এইচএসসি পরীক্ষার খাতা কাটছেন। দেশের লাখো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নির্ধারণকারী পরীক্ষার খাতা কি এমন পরিবেশে মূল্যায়ন হওয়া উচিত? দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের বাদ দিয়ে বহিরাগতদের হাতে কীভাবে এসব খাতা এলো?’

আড্ডায় শিক্ষকের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন শাবিপ্রবির সাবেক শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি আইরিন লিনজা। তবে তিনি নিজের সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি এখানকার শিক্ষক বা শিক্ষার্থী নই, শুধুই শাবিপ্রবির সাবেক শিক্ষার্থী। ইকবালের সঙ্গে আমার বন্ধুত্ব থাকায় সেখানে উপস্থিত ছিলাম, এর বাইরে খাতা মূল্যায়নের সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত প্রভাষক ইকবাল হোসেন বলেন, ‘তাড়াহুড়োর কারণে বন্ধুদের সাহায্য নিয়ে খাতার কোড নম্বর মেলাচ্ছিলাম।’

উত্তরপত্রের খাতা জব্দ করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াসমিন। তিনি বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমি অনেক ব্যস্ত আছি। তিনি আমাদের হেফাজতে আছেন। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ 

সিলেট মহানগর পুলিশের জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুল হাবিব বলেন, ‘চায়ের দোকানে খাতা দেখার অভিযোগে একজন শিক্ষককে শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা থানায় এনেছিলেন। এ ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পর তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে গেছেন।’


ওয়াইএফ/০৯

সিলেট প্রতিক্ষণ