55
Sharesদীর্ঘ চার মাস পর সিলেট-ম্যানচেস্টার সরাসরি
ফ্লাইট পুনরায় চালু হওয়ার দিনই সিলেট এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে আঞ্চলিক
যোগাযোগের কেন্দ্র (রিজিওনাল কমিউনিকেশন হাব) হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন
বাণিজ্যমন্ত্রী ও সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
সোমবার (৬ জুলাই) ম্যানচেস্টার থেকে আসা প্রথম
ফ্লাইটের যাত্রীদের স্বাগত জানানোর পর বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি
এ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘আজ আমাদের জন্য আনন্দের দিন।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সিলেট-ম্যানচেস্টার সরাসরি ফ্লাইট আবার চালু হয়েছে। এই বিষয়ে সিলেটের
সংশ্লিষ্ট মন্ত্রিসভার সদস্যরা সবাই আন্তরিকভাবে কাজ করেছেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
হলো, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজেও এ ব্যাপারে বিশেষ আগ্রহ দেখিয়েছেন।’
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সিলেটের প্রতি
বিশেষ আন্তরিকতার কারণেই এই রুট পুনরায় চালু করা সম্ভব হয়েছে।’ একই সঙ্গে বেসামরিক
বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতার সহযোগিতারও প্রশংসা করেন তিনি।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানান, বেসামরিক
বিমান পরিবহন মন্ত্রীর সঙ্গে একাধিক দফা আলোচনায় সিলেটের বিমান যোগাযোগ সম্প্রসারণের
বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ আগামী দিনে সিলেট-কক্সবাজার
রুটেও আবার বিমান চলাচল শুরু হবে।’
সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে প্রকৃত
অর্থে আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দরে উন্নীত করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।
তার ভাষায়, ‘ভবিষ্যতে যেসব আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্স
সিলেটে ফ্লাইট পরিচালনা করতে আগ্রহী হবে, তাদের বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হবে।
আমরা চাই সিলেট বিমানবন্দর সত্যিকার অর্থেই একটি কার্যকর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পরিণত
হোক।’
নিজের নির্বাচনী অঙ্গীকারের কথা উল্লেখ করে
তিনি বলেন, সিলেট বিমানবন্দরকে শুধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নয়, একটি রিজিওনাল কমিউনিকেশন
হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাই সরকারের লক্ষ্য।
তিনি বলেন, ‘আমরা চাই এই অঞ্চল এবং আশপাশের
দেশগুলোর মধ্যে যাতায়াতের অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠুক সিলেট বিমানবন্দর। এখান থেকেই আঞ্চলিক
যোগাযোগের নতুন সুযোগ তৈরি হবে।’
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের
সঙ্গে সরাসরি আকাশপথ চালুর সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন মন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘দুই দেশের সম্পর্ক উপযুক্ত পর্যায়ে
উন্নীত হলে ভবিষ্যতে সিলেট থেকে গৌহাটিসহ অন্যান্য গন্তব্যে সরাসরি ফ্লাইট চালুর ইচ্ছা
রয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, সাংস্কৃতিক যোগাযোগ এবং ব্যবসা-বাণিজ্য আরও সম্প্রসারণের
লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি।’