48
Sharesজাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘মানুষ কষ্টে আছে। গ্যাসের দাম, বিদ্যুতের দাম, সবজির দাম বেড়েছে। কিন্তু বিরোধী দল হিসেবে আমরা এসবের সমালোচনা করতে পারব না। সমালোচনা করলে হামলা করা হচ্ছে। চোখ উপড়ে ফেলা হচ্ছে। বালুর ট্রাক দিয়ে রাস্তা আটকে দেওয়া হচ্ছে।’
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সন্ধ্যা সাতটার দিকে সিলেটের কানাইঘাট উপজেলায় উত্তর বাজারে এসসিপির সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
বৃহস্পতিবার দিনের প্রথমভাগে সিলেটের গোলাপগঞ্জে গাড়িবহরে হামলা ঘটনায় শুরু হলেও জেলার কানাইঘাট উপজেলায় কোনো অঘটন ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে ‘জুলাই পদযাত্রা’ ও পথসভা সম্পন্ন করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে কানাইঘাট উত্তর বাজারে এ কর্মসূচি পালিত হয়। কানাইঘাট পৌর শহর ও আশপাশের এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদেরও পুলিশি নিরাপত্তায় কানাইঘাটে নেওয়া হয়।
কানাইঘাট উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক সৈয়দ শরিফ উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক বুরহান উদ্দিন ইউসুফের সঞ্চালনায় পথসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন দলের আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় হুইপ নাহিদ ইসলাম।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন দলের মুখ্য সংগঠক নাসির উদ্দিন পাঠোয়ারী, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, কুড়িগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক আতিকুর রহমান মুজাহিদ এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা মিতু। এছাড়া সিলেট জেলা, মহানগর ও কানাইঘাট উপজেলা এনসিপি এবং সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘মানুষ কষ্টে আছে। গ্যাসের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। বিদ্যুতের দাম বেড়েছে। সবজির দাম বেড়েছে। কিন্তু বিরোধী দল হিসেবে আমরা এসবের সমালোচনা করতে পারব না। আমরা যদি সমালোচনা করি তাহলে হামলা করা হচ্ছে। চোখ উপড়ে ফেলা হচ্ছে। বালুর ট্রাক দিয়ে রাস্তা আটকে দেওয়া হচ্ছে।’
হবিগঞ্জে জুলাই পদযাত্রায় হামলায় এক কিশোরের চোখ নষ্ট হয়ে গেছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তারেক রহমান, আপনাকে ওই কিশোরের চোখ ফেরত দিতে হবে। আপনি কীভাবে ফেরত দিবেন জানি না। তবে আপনাকে তা দিতে হবে। চোখ ফেরত পাওয়ার আগ পর্যন্ত আমরা ঘরে ফিরব না।’
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘প্রিয় তারেক রহমান, আপনি প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন; আপনি বলেছিলেন দেশে এসে আপনার পরিকল্পনা রয়েছে। এটা আপনার কেমন পরিকল্পনা? হবিগঞ্জের জিকে গউসের অনুসারীরা হামলা করে রড দিয়ে একটা চোখ নষ্ট করে ফেলেছে একজন কিশোরের।’ তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা আমার শত শত ভাই-বোনের চোখ নষ্ট করে, গুলি করে আজকে দিল্লিতে নির্বাসিত। তারেক রহমান, এই নতুন বাংলাদেশে আমার আরেক ভাইয়ের চোখ নষ্ট করে কী বার্তা দিতে চাচ্ছেন? বাংলাদেশের জনগণ এটা মেনে নেবে না। অবশ্যই সেই কিশোরের চোখ কীভাবে ফেরত দিবেন আমরা জানি না, কিন্তু সেই চোখ ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত আমরা ঘরে ফিরব না।’
নাহিদ বলেন, ‘আমরা জিয়াউর রহমানকে শ্রদ্ধা করি, বেগম খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধা করি। কিন্তু জিয়াউর রহমানের ছবি ও পোস্টার টানিয়ে, বেগম খালেদা জিয়ার ছবি ও পোস্টার টানিয়ে আপনারা সন্ত্রাস করবেন, জমি দখল করবেন, ভূমি দখল করবেন-এটা আমরা মেনে নেব না।’
আওয়ামী লীগ সরকারের প্রসঙ্গ তুলে নাহিদ বলেন, ‘বিগত ১৬ বছর এই দেশে মুজিবের নামে ব্যবসা হয়েছে। এখন আমরা জিয়াউর রহমানের নামে কোনো ব্যবসা হতে দেব না। অবিলম্বে জিয়া-ব্যবসা বন্ধ করেন, সন্ত্রাসবাদ বন্ধ করেন, দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন। কথা বলার অধিকার থাকতে হবে। জনগণের কর্মসংস্থানের অধিকার, জনগণের খাবারের অধিকার-সবকিছু নিশ্চিত করতে হবে। সংস্কার নিশ্চিত করতে হবে। বিচার নিশ্চিত করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘প্রিয় কানাইঘাটবাসী, আমরা স্পষ্ট নমুনা দেখতে পাচ্ছি আগামী স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে কী হতে যাচ্ছে। এই সকল লাঠিয়াল বাহিনী ও সন্ত্রাসীদের দিয়ে আবারো ভোট কারচুপি করা হবে, জনগণের অধিকার কেড়ে নেওয়া হবে-আপনাদেরকে সেটার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।’ জাতীয় নির্বাচনে যে ইঞ্জিনিয়ারিং হয়েছে তা ঠেকাতে পারেননি মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘কিন্তু স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনো ধরনের কারচুপি, কোনো ধরনের লাঠিয়াল বাহিনী, কোনো ধরনের সন্ত্রাসীদের আমরা জায়গা করতে দেব না।’
স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘যদি স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও আমরা পরাজিত হই, এই দেশে নব্য ফ্যাসিবাদ তৈরি হবে, নতুন স্বৈরাচার তৈরি হবে-আমরা সেটাকে রুখে দিব। আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আপনারা ভোট দিবেন। জনগণের পক্ষে ও উপযুক্ত প্রতিনিধির পক্ষে কথা বলবেন। শাপলাকলি এবং এনসিপির পক্ষে দাঁড়াবেন।’
এর আগে দুপুরে গোলাপগঞ্জে এনসিপির নেতাদের বহনকারী গাড়িতে ঢিল ছুঁড়ে ভাঙচুর করা হয়। পরে সিলেট সার্কিট হাউসে অবস্থান নেন নেতারা। সেখান থেকে সন্ধ্যায় কানাইঘাটে যান তারা।