163
Sharesঅনিয়মসহ বিভিন্ন কারণে রোববার রাতে পদ্মা সেতুতে মোটরসাইকেল চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে সরকার। ওই ঘোষণার পরও সোমবার সকাল ৭টার দিকে পদ্মা সেতু পাড়ি দিতে মাওয়া প্রান্তে ভিড় জমান বেশ কয়েকজন মোটরসাইকেলচালক।
তারা সেতু পার হওয়ার জন্য জোর দাবি জানাতে থাকেন, তবে টোল প্লাজায় দায়িত্বরত পুলিশ ও আনসার সদস্যদের বাধায় সেতু পার হতে পারেননি তারা। টোল প্লাজায় দায়িত্বরতরা শরীয়তপুরের মাঝিরকান্দিগামী বাইকচালকদের মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া ঘাটে যেতে বলেন।
তাদের কথামতো শিমুলিয়ায় গিয়ে ‘কুঞ্জলতা’ নামের ফেরিতে করে গন্তব্যে রওনা হন বাইকচালকরা। মাওয়া ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক জিয়াউদ্দিন জিয়া বলেন, সকালবেলা অনেকে না বুঝে না শুনে মোটরসাইকেল নিয়ে পদ্মার ওপারের যাওয়ার জন্য টোল প্লাজার সামনে আসে।
আমরা তাদের বুঝিয়ে বিকল্প পথে জনস্বার্থে ফেরি ‘কুঞ্জলতা’তে করে মাঝিরকান্দার উদ্দেশে পাঠানো হয়, তবে কতসংখ্যক মোটরসাইকেল ছিল, তা বলা মুশকিল। মাওয়া প্রান্তে ফলক উন্মোচনের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শনিবার দুপুর ১২টার ঠিক আগে পদ্মা সেতুর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
ঘোষণা অনুযায়ী পরের দিন ভোর ৬টা থেকে সব ধরনের যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয় সেতু। এর আগে শনিবার রাত থেকেই পদ্মা সেতুর মাওয়া ও জাজিরা প্রান্তে টোল প্লাজার সামনে ভিড় করে বিপুলসংখ্যক গাড়ি।
এর বেশিরভাগই ছিল মোটরসাইকেল। সেতুতে যান চলাচল শুরু হলে মোটরসাইকেলচালকরা নানা বিশৃঙ্খলা ও অনিয়মে জড়ান। তাদের কেউ কেউ রেলিংয়ে বসে ছবি তোলেন। বাইজীদ নামের এক বাইকার রেলিংয়ের নাট-বল্টু খুলে ফেলেন।
এ সংক্রান্ত টিকটক ভিডিও ভাইরাল হলে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এমন বাস্তবতায় রোববার রাতে সেতুতে অনির্দিষ্টকালের জন্য মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। ওই নিষেধাজ্ঞা সোমবার ভোর ছয়টা থেকে কার্যকর হয়। নিষেধাজ্ঞার পরও রাতে পদ্মা সেতুতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় দুজনের প্রাণহানি হয়েছে।